ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি (India-US Deal) নিয়ে কেন্দ্রের সমালোচনায় মুখর হয়েছে বিরোধীরা। সংসদে নরেন্দ্র মোদি সরকারকে বিঁধেছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। এই পরিস্থিতিতে শনিবার কৃষক নেতাদের সঙ্গে দেখা করতেন তিনি। সূত্রের খবর, কৃষক নেতারা ভারত-মার্কিন চুক্তির বিরোধিতা করে কৃষকদের অধিকার রক্ষায় দেশব্যাপী আন্দোলনের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, কৃষক নেতাদের সঙ্গে রাহুলের সাক্ষাতের বিষয়টিকে ‘নাটক’ বলে অভিহিত করেছে বিজেপি।
শনিবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল দেশের ১৭টি কৃষক ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করেন। সূত্রের খবর, বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে কৃষক নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, যে সমস্ত ভারতীয় কৃষকরা ভুট্টা, সয়াবিন, তুলো, ফল এবং বাদাম চাষ করেন তাঁরা ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। প্রসঙ্গত, রাহুলও সংসদে বারবার এই বিষয়টি তুলে ধরে বিরোধিতা করেছেন। এদিকে রাহুলের সঙ্গে কৃষক নেতাদের সাক্ষাতের পরই ফুঁসে উঠেছে বিজেপি। কংগ্রেস সাংসদের দাবিকে ‘ভুয়ো’ এবং ‘বানানো’ বলে আখ্যা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তাঁর দাবি, এই বৈঠকের লক্ষ্য ছিল পরিশ্রমী অন্নদাতাদের (কৃষকদের) বিভ্রান্ত করা এবং সরকারের অর্থনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে উসকে দেওয়া। পীযূষ তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘রাহুল ফের নাটক করছেন। তিনি নিজের মনগড়া তত্ত্ব উপস্থাপন করছেন। এবার তিনি কংগ্রেসের কয়েকজন কর্মীর কাঁধে বন্দুক রেখে গুলি চালাচ্ছেন, যাঁরা কৃষক নেতা হওয়ার ভান করছেন।’
দীর্ঘ দরকষাকষি এবং স্নায়ুযুদ্ধের পর বাণিজ্যচুক্তিতে ভারত-আমেরিকার সমঝোতা হয়েছে। গত সপ্তাহেই সেই ঘোষণা করেছেন প্রথমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই ঘোষণার পর গত শনিবার অন্তর্বর্তী সমঝোতা নিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে দুই দেশ। তার পরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ভারতীয় পণ্যে শুল্কের হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করছে আমেরিকার। পাশাপাশি, রুশ তেল কেনার জন্য ভারতের পণ্যে যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে রেখেছিলেন ট্রাম্প, তা প্রত্যাহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পীযূষ।
দীর্ঘ দরকষাকষি এবং স্নায়ুযুদ্ধের পর বাণিজ্যচুক্তিতে ভারত-আমেরিকার সমঝোতা হয়েছে। গত সপ্তাহেই সেই ঘোষণা করেছেন প্রথমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, আমেরিকায় পণ্য রপ্তানিতে যে সব দেশের সঙ্গে ভারতের প্রতিযোগিতা রয়েছে, তাদের চেয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান এখন অনেকটাই সুবিধাজনক। চিনা পণ্যে এখন শুল্কের হার ৩৫ শতাংশ। ভিয়েতনাম, বাংলাদেশের উপর ২০ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ার উপর ১৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে রেখেছে আমেরিকা। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ভারতীয় পণ্যে শুল্কের হার ১৮ শতাংশ। শুধু তা-ই নয়, এই বাণিজ্যিক সমঝোতার ফলে বিনা শুল্কেও কিছু পণ্য রপ্তানি করতে পারবে। তার মধ্যে অন্যতম হল স্মার্টফোন।
দেশের কৃষিক্ষেত্রও পুরোপুরি সুরক্ষিত জানিয়ে গোয়েল বলেন, “মশলা, চা, কফি, নারকেল তেল, কাজু, বিভিন্ন ফল ও সবজি— এই সব পণ্য বিনাশুল্কে আমেরিকায় রপ্তানি করতে পারবে। ভারত।” বাণিজ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ভারতের কৃষিক্ষেত্রকে মোটেই পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়নি। যে সব পণ্য উৎপাদনে দেশ স্বনির্ভর, সেগুলিকে এই চুক্তির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। জেনেটিকালি মডিফায়েড ফসল, মাংস, পোলট্রি, দুগ্ধজাত পণ্য, সয়াবিন, ভুট্টা, চাল, গম, চিনি, এবং জোয়ার, বাজরা, রাগির পণ্য এ দেশে কম শুল্কে রপ্তানি করতে পারবে না আমেরিকা। কলা, স্ট্রবেরি, চেরি, সাইট্রাস ফল, গ্রিন টি, কাবুলি ছোলা, মুগ, তেলবীজ, চিনাবাদাম, নন-অ্যালকোহলিক পানীয়, স্টার্চ, ইথানল এবং তামাক— এই সব পণ্যেও কোনও ছাড় দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
