দল ছেড়ে এবার কংগ্রেসের বিরুদ্ধে খড়গহস্ত প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান নেতা শাকিল আহমেদ। তাঁর অভিযোগ, রাহুল গান্ধী হলেন দেশের সবচেয়ে ভীতু রাজনৈতিক নেতা। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকেও একহাত নিতে ছাড়েননি শাকিল। তাঁর তোপ, খাড়গে আসলে ধামাধরা সভাপতি। উনি রাহুল গান্ধীর রিমোর্ট কন্ট্রোলে চলেন।
সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কংগ্রেসের আভ্যন্তরীণ ছবিটা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে তিনি বলেন, "রাহুল গান্ধী হলেন এমন একজন নেতা যিনি গাছ লাগানোর পরিবর্তে তা উপড়ে ফেলতে বেশি আগ্রহী। নিজের দলের শক্তিশালী নেতাদের উনি ভয় পান। তাই অন্য দল থেকে আসা নেতাদের বেশি গুরুত্ব দেন। আমি রাহুলের মতো অস্তিত্ব সংকটে ভোগা ভীতু নেতা আর কখনও দেখিনি। কথাটা শুনতে খারাপ লাগলেও এটাই সত্য।" তাঁর অভিযোগ, "আমি দল ছাড়ার পর অন্য দল থেকে আসা নেতাকে শীর্ষ পদ দেওয়া হয়েছে। এর মূল কারণ হল, দলে এইসব নেতাদের ভিত শক্ত নয়, তাই যখন খুশি উপড়ে ফেলা যায়। উনি আসলে দলে 'বস' মতো থাকতে পছন্দ করেন। উনি চান দলে সবাই অনার নিয়ন্ত্রণে থাকবেন।"
শাকিলের আরও অভিযোগ, "রাহুল অধিক বয়সের নেতাদের সঙ্গে বসতে স্বচ্ছন্দ নন। কারণ, সেক্ষেত্রে তাঁদের 'আপনি' বলে সম্বোধন করতে হবে। যেখানে ওনার নিয়ন্ত্রণ নেই সেখান থেকে উনি নিজেকে সরিয়ে নেন। এবং সিনিয়র নেতাদের একেবারেই পছন্দ করেন না।'' শুধু তাই নয়, সংবিধান বাঁচাও অভিযান চালাতে রাহুল ১৬-১৭ জন বিজেপি ও আরএসএস নেতাকে দলে নিয়ে তাঁদের টিকিটও দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন শাকিল। একই সুরে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে তোপ দেগে শাকিল বলেন, "খাড়গে শুধু নামেই সভাপতি। গোটা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ আসলে রাহুলের হাতে। উনি রিমোর্ট কন্ট্রোলে চলেন। সিদ্ধান্ত যা নেওয়ার তা রাহুল গান্ধীই নেন।"
উল্লেখ্য, এককালে রাজীব ও সোনিয়া গান্ধীর প্রিয় পাত্র ছিলেন বিহারের কংগ্রেস নেতা শাকিল আহমেদ। বিহারের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হওয়ার পাশাপাশি কংগ্রেস জমানায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও ছিলেন তিনি। বিহার বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের চূড়ান্ত পরাজয়ের পর দল ছাড়েন তিনি। জানিয়ে দেন কংগ্রেস ছাড়লেও অন্য কোনও দলে যোগ দেবেন না। দল ছাড়ার সময় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সেভাবে আক্রমণাত্মক না হলেও এবার রাহুলের বিরুদ্ধে তেড়েফুঁড়ে আক্রমনে নামলেন শাকিল।
