পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে মাঝমাঝেই কাজ না করার অভিযোগ তোলে জনতা। এর ঠিক বিপরীতে চন্দনা সিংয়ের মতো বীরঙ্গনা আরপিএফ অফিসাররা নিঃশব্দে কাজ করে যান। রেলস্টেশন থেকে নিখোঁজ ১৫০০ শিশুকে উদ্ধার করে রেলের সর্বোচ্চ সম্মান পেলেন উত্তরপ্রদেশের এই মহিলা আরপিএফ আধিকারিক। কীভাবে পাচারকারীদের বাগে আনলেন চন্দনা? কীভাবে তাঁদের খপ্পর থেকে উদ্ধার করলেন শিশুদের?
একটা সময় উত্তরপ্রদেশের একাধিক রেলস্টেশন থেকে একের পর এক বাচ্চা নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছিল। বিষয়টি উদ্বেগজনক হয়ে ওঠায় আরপিএফের তরফে চন্দনা সিংকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি একটি দল গঠন করেন। ২০২৪ সালে ‘অপারেশন নান্হে ফরিস্তে’ শুরু হয় চন্দনার নেতৃত্বে। লখনউয়ের চারবাগ স্টেশন এই অভিযান শুরু হয়েছিল। এর পর অভিযোগের মাত্রা অনুয়ায়ী মানচিত্র তৈরি করে একাধিক রেল স্টেশনে আচমকা অভিযান চালায় চন্দনার নেতৃত্বাধীন আরপিএফের একটি দল। তাতেই একাধিক শিশুপাচার চক্রের হদিস মেলে। প্রাথমিক ভাবে ১৫২টি শিশুকে পাচার হওয়ার আগে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
এখনও পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে চন্দনার দল মোট ১৫০০টি শিশুকে উদ্ধার করেছে। শুধু ২০২৫ সালেই চন্দনার দল ১০৩২ জন শিশুকে উদ্ধার করে। তার মধ্যে ৩৯ জন পাচার হয়েও গিয়েছিল। তাদেরকেও উদ্ধার করা গিয়েছে। অসামান্য এই কৃতিত্বের জন্য রেলের সর্বোচ্চ সম্মান ‘অতি বিশিষ্ট রেল সেবা’ পুরস্কার পেলেন উত্তরপ্রদেশের আরপিএফ অফিসার চন্দনা সিং। উল্লেখ্য, ২০১০ সালে রেল সুরক্ষা বাহিনীতে যোগ দেন ছত্তিশগড়ের বিলাসপুরের বাসিন্দা চন্দনা। আটের দশকের টিভি সিরিজ 'উড়ান' দেখে আইপিএস অফিসার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। সেই স্বপ্নপূরণ হল ‘অতি বিশিষ্ট রেল সেবা’ পুরস্কারে।
