মেঘালয় হানিমুন হত্যাকাণ্ডে গোটা দেশ শিউরে উঠেছিল। মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে স্বামী রাজা রঘুবংশীকে খুন করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন স্ত্রী সোনম রঘুবংশী। গ্রেপ্তার হন প্রেমিক রাজ কুশওয়াহা-সহ তিন ভাড়াটে খুনিও। দেখতে দেখতে কেটে গিয়েছে প্রায় একটা বছর। এবার প্রয়াত রাজার পরিবারে এসেছে নতুন সদস্য। বাবা হয়েছেন তাঁর দাদা শচীন। পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী। নাতির মুখ দেখে পুত্রহারা রাজার মা বলছেন, ''আমার রাজা ফিরে এসেছে।''
জানা যাচ্ছে, নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে রাজা। পরিবারের দাবি, একাদশীতে খুন হয়েছিলেন রাজা রঘুবংশী। এদিকে তাঁর ভাইপো জন্মেছে একাদশীতে। আপ্লুত রাজার মা উমা রঘুবংশী বলছেন, ''আমার ছেলে আবার ফিরে এসেছে।'' গোটা পরিবারই এই বিষয়ে একমত। সকলেই মনে করছে ঈশ্বরের আশীর্বাদে ফের পরিবারে ফিরে এসেছে রাজা।
উল্লেখ্য, গত ২০ মে মধুচন্দ্রিমায় মেঘালয়ে ঘুরতে যান নবদম্পতি রাজা রঘুবংশী ও সোনম রঘুবংশী। ২৩ মে চেরাপুঞ্জিতে পৌঁছনোর পর নিখোঁজ হয়ে যান দম্পতি। এই ঘটনার ১১ দিন পর জলপ্রপাতের খাদ থেকে উদ্ধার হয় রাজার দেহ। তবে খোঁজ মেলেনি সোনমের। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে রাজার স্ত্রী সোনমের সঙ্গে প্রেম ছিল তঁার বাবার কারখানার কর্মী রাজের। অভিযোগ, প্রেমিকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ইন্দোর থেকে তিন ভাড়াটে গুন্ডা আকাশ রাজপুত, বিশাল চৌহান, আনন্দ কুরমিকে এনে রাজাকে খুন করান তঁারা। খুনের জন্য তঁারা গুন্ডাদের ২০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। ৮ জুন উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরে আত্মসমর্পণ করেন সোনম। এর একদিন পরে ধরা পড়ে তঁার প্রেমিক রাজও। ৭৯০ পাতার চার্জশিটে সোনমের বিরুদ্ধে খুন, খুনের ষড়যন্ত্র, প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে।
