১০ রাজ্যের ৩৭ আসনে রাজ্যসভার নির্বাচন। কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আগামী ১৬ মার্চ একযোগে ওই ৩৭ আসনে ভোট হওয়ার কথা। ওই ভোটের (Rajya Sabha Elections) পরই বদলে যেতে পারে রাজ্যসভার যাবতীয় অঙ্ক। আর সেই অঙ্কবদলের খেলায় খানিকটা নিরুপায় হয়ে 'চোখের বালি' আসাদউদ্দিন ওয়েইসির (Asaduddin Owaisi) দ্বারস্থ হচ্ছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। শোনা যাচ্ছে, তেলেঙ্গানায় স্থানীয় স্তরে মিমের সঙ্গে অঘোষিত সমঝোতা চাইছে হাত শিবির।
নির্বাচন কমিশনের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজ্যসভার আসনগুলিতে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৫ মার্চ, প্রত্যাহারের সময়সীমা ৯ মার্চ, এরপর ১৬ মার্চ হবে ভোটগ্রহণ এবং ওইদিনই বিকেল ৫টায় হবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা। যে ১০ রাজ্যের ৩৭ আসনে নির্বাচন হচ্ছে সেগুলি হল মহারাষ্ট্র (৭), ওড়িশা (৪), তামিলনাড়ু (৬), পশ্চিমবঙ্গ (৫), অসম (৩), বিহার (৫), ছত্তিশগড় (২), হিমাচল(১), তেলেঙ্গানা (২) ও হরিয়ানা (২)। এর মধ্যে অসমে একটি, তামিলনাড়ুতে দুটি, তেলেঙ্গানায় দুটি, হরিয়ানা এবং হিমাচলের একটি করে আসন জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী কংগ্রেস।
কিন্তু এই আসন জয়ে একাধিক রাজ্যে শরিকদের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে কংগ্রেসকে। যেমন তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস ডিএমকের উপর নির্ভরশীল, অসমে নির্ভরশীল স্থানীয় দলগুলির উপর। তাৎপর্যপূর্ণভাবে তেলেঙ্গানায় জোড়া আসন জিততে হলে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দলের উপর ভরসা করতে হবে হাত শিবিরকে। আসলে ১৯৯ আসনের তেলেঙ্গানা বিধানসভায় কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা ৬৬। পরে দলে যোগ দেন ১০ বিআরএস বিধায়ক। সেই হিসাবে এখন কংগ্রেসের হাতে বিধায়ক ৭৬। অন্যদিকে বিআরএসের বিধায়ক সংখ্যা ২৮। রাজ্যসভা আসনের জন্য বিআরএস এবং বিজেপি যদি জোট বাঁধে তাহলে সংখ্যাটা ৩৬ হতে পারে। সেক্ষেত্রে বিআরএস প্রার্থী দিলে কংগ্রেসের পক্ষে দ্বিতীয় আসনটি জেতা মুশকিল। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে কংগ্রেসের মুশকিল আসান হতে পারেন আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দলের ৭ বিধায়ক। কংগ্রেস মনে করছে, মিমের ৭ বিধায়ক যদি সরাসরি কংগ্রেসকে সমর্থন নাও করেন, তাঁরা ভোটদান থেকে বিরত থাকলেই কংগ্রেসের পক্ষে দ্বিতীয় প্রার্থীকে জেতানো সমস্যার হবে না। সেই লক্ষ্যে নাকি মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি ইতিমধ্যেই ওয়েইসির সঙ্গে আলোচনা করেছেন। আর শুধু তেলেঙ্গানায় নয়, বিহারেও একই ভাবে রাজ্যসভা আসন জিততে ওয়েইসির সমর্থন চায় বিরোধী জোট। সব মিলিয়ে দুই রাজ্যে রাজ্যসভার জন্য ওয়েইসির উপর নির্ভরশীল কংগ্রেস ও বিরোধী জোট।
মজার কথা হল, এতদিন পর্যন্ত ওয়েইসির দলকে বিজেপির বি টিম বলে আসছে কংগ্রেস। এমনকী একটা দীর্ঘসময় পর্যন্ত কংগ্রেসের কাছে কার্যত অছ্যুত ছিলেন ওয়েইসি। কিন্তু গত কয়েক বছরে দেশজুড়ে যেভাবে ওয়েইসির প্রভাব বাড়ছে, তাতে তাঁকে উপেক্ষা করাটা আর সম্ভব হচ্ছে না কংগ্রেসের পক্ষে।
