আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ আদৌ থামবে কিনা, সেই নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। তার জেরে ওঠানামা চলছে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে। তার মধ্যেই রেপো রেট নিয়ে নতুন ঘোষণা করল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। তিনদিনব্যাপী মনিটরি পলিসি কমিটির বৈঠকের পর গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানিয়েছেন, সকলের সম্মতিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে রেপো রেট নিয়ে। আপাতত অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে রেপো রেট। ফলে বাড়ি-গাড়ির ইএমআই বৃদ্ধির আশঙ্কা আপাতত নেই।
দু’মাস অন্তর রেপো রেট নিয়ে বৈঠকে বসে আরবিআইয়ের মনিটরি পলিসি কমিটি। এই বৈঠকে কমিটির ৬ সদস্যই রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। গতবছর ডিসেম্বর মাসে রেপো রেট কমিয়ে ৫.২৫ শতাংশে আনা হয়েছিল। এতদিন পর্যন্ত সেটাই বহাল ছিল। অর্থাৎ আগামী দু’মাস পর্যন্ত ৫.২৫ শতাংশ থাকবে রেপো রেট। শীর্ষ ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আপাতত রেপো রেট নিয়ে কোনও উদ্যোগ নেওয়ার দরকার। বরং যেমন চলছে আগামী দু'মাস রেপো রেট তেমনই থাক।
গত বছর জুন মাসে মুদ্রানীতির বৈঠকে ৫০ বেসিস পয়েন্ট রেপো রেট কমিয়েছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। যার জেরে রেপো রেট দাঁড়ায় ৫.৫ শতাংশে। তার আগে অবশ্য ফেরুয়ারি ও এপ্রিল মাসে রেপো রেট দফায় দফায় কমায় শীর্ষ ব্যাঙ্ক। এভাবে ১০০ বেসিস পয়েন্ট রেপো রেট কমানোর ফলে আরবিআইয়ের ক্যাশ রিজার্ভ রেট কমে আসে ৩ শতাংশে। তার জেরে আগস্ট মাসে আর রেপো রেট কমায়নি আরবিআই। কিন্তু ডিসেম্বর মাসে ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। তারপর আটমাস ধরে সেই রেট বজায় ছিল। আরও দু'মাস থাকবে এই রেপো রেট।
আরবিআই গভর্নর জানান, জুলাইয়ের প্রথম দিকে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের তীব্রতা আবারও বেড়েছে। তার জেরে বেড়েছে জ্বালানির দাম। গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে চাপ পড়েছে। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ভারতের অর্থনীতির ফলাফল ভালো হয়েছে প্রথম ত্রৈমাসিকে। যদিও ভারতীয় অর্থনীতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকদের অনেকে। ব্লুমবার্গের রিপোর্টে দাবি করা হয়, বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার বাঁচাতে দেশের সঞ্চিত সোনা রেকর্ড অঙ্কে বেচে দিয়েছে মোদি সরকার। যদিও সেই খবর ভুয়ো বলে জানিয়ে দেয় আরবিআই।
