৭৭তম সাধারণতন্ত্র দিবসের আনন্দে মোতোয়ারা দেশ। রাজধানী দিল্লির কর্তব্য পথে আজ বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের শক্তি দেখল গোটা দুনিয়া। শত্রুর বুকে কাঁপন ধরিয়ে ভীম-বিক্রমে হাজার হাজার মানুষের সামনে কুচকাওয়াজ। গড়গড়িয়ে ছুটল টি-৯০ ভীষ্ম ট্যাঙ্ক। আকাশ ফালাফালা করল ভারতের যুদ্ধবিমান। সংবাদ প্রতিদিন ডট ইন-এ সাধারণতন্ত্র দিবসের সমস্ত খুঁটিনাটি।
বেলা ১২.০০: বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ ট্যাবলো কেন্দ্রের। কর্তব্য পথে আয়োজিত হয় বিশেষ নৃত্য অনুষ্ঠান।
সকাল ১১.৫০: সাধারণতন্ত্র দিবসে দিল্লির কর্তব্য পথে বাংলার ট্যাবলোয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ক্ষুদিরাম বসু। দেশকে স্বাধীন করতে কত রক্ত দিয়েছে বাঙালি, তা তুলে ধরা হয়েছে ট্যাবলোয়।
কর্তব্যপথে বাংলার ট্যাবলো। নিজস্ব চিত্র
সকাল ১১.৪০: 'আত্মনির্ভর ভারত'কে সঙ্গী করে তামিলনাড়ুর ট্যাবলোতে তুলে ধরা হল, রাজ্যের প্রাচীন সাংস্কৃতি এবং আধুনিকতার মেলবন্ধন।
সকাল ১১.৩০: এবারের সাধারণতন্ত্র দিবসের বিশেষ চমক বলিউডের ট্যাবলো। ভারতের চলচ্চিত্র শিল্প এবং এর সাংস্কৃতিক প্রভাব তুলে ধরা হল কর্তব্য পথে।
কর্তব্য পথে বলিউডের ট্যাবলো।
সকাল ১১.২৫: ছত্তিশগড়ের ট্যাবলো দেখা গেল কার্তব্য পথে। যেখানে তুলে ধরা হয়েছে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে আদিবাসী যোদ্ধাদের ভূমিকা। আদিবাসী ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং তাঁদের ঐতিহাসিক অবদান তুলে ধরা হয়েছে ট্যাবলোয়।
কর্তব্য পথে ছত্তিশগড়ের ট্যাবলো।
সকাল ১১.২০: কর্তব্য পথে গুজরাটের ট্যাবলো। যেখানে দেখা গেল মহাত্মা গান্ধী ও ভিকাজি কামাকে। তুলে ধরা হল স্বাধীনতা দিবসে গুজরাটের ভূমিকা।
কর্তব্য পথে গুজরাটের ট্যাবলো।
সকাল ১১.১৯: রাজধানী দিল্লির আকাশ কাঁপিয়ে ছুটল ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান। সিঁদুর ফর্মেশনে উড়ান সুখোই-৩০, মিগ-২৯ এবং জাগুয়ার যুদ্ধবিমানের।
দিল্লির আকাশে উড়ল একের পর এক যুদ্ধবিমান।
সকাল ১১.০০:কুচকাওয়াজে অংশ নিল 'ভারতের হিম যোদ্ধা'। দেশের সবচেয়ে উচ্চতম স্থানে সীমান্ত রক্ষায় মোতায়েন থাকেন এই যোদ্ধারা।
কুচকাওয়াজে হিম যোদ্ধারা।
সকাল ১০.৫৫: কর্তব্য পথে দাপট দেখাল ব্রহ্মস মিসাইল এবং সূর্যাস্ত্র। প্রতিপক্ষ বাহিনীর রাডার সিস্টেম ধ্বংস করে তাদের কার্যত অন্ধ করে দেয় সূর্যাস্ত্র।
রাজপথে ব্রহ্মস ও সূর্যাস্ত্র
সকাল ১০.৫০: ইউরোপীয় ইউনিয়নের মিলিটারি কন্টিজেন্টকে দেখা গেল কর্তব্যপথে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা হাতে দেখা গেল ফ্রেডরিক সিমনকে।
সকাল ১০.৪৫: কর্তব্য পথে কুচকাওয়াজ টি-৯০ ভীষ্ম ট্যাঙ্কের। ভারতীয় স্থলসেনার মেরুদণ্ড বলা হয় রুশ নির্মিত এই ট্যাঙ্কটিকে।
সকাল ১০.৪০: কর্তব্য পথে শুরু কুচকাওয়াজ। বিশ্বের বৃহত্তম গনতন্ত্রের সমরশক্তি দেখছে গোটা বিশ্ব। বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তি সাধারণতন্ত্র দিবসের থিম। এদিকে, রেড রোডে প্যারেড শুরু ভৈরব বাহিনীর।
সকাল ১০.৩০: মহাকাশে উড়িয়েছেন ভারতের ঝান্ডা। গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লাকে অশোক চক্রে সম্মানিত করলেন রাষ্ট্রপতি মুর্মু।
সকাল ১০: ২০ রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে কর্তব্যপথের উদ্দেশে রওনা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও বিশেষ অতিথি ইউরোপীয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তনিও কোস্টা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ভন।
সকাল ১০.১৪: ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালে শহিদদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের। ছিলেন, ৩ বাহিনীর প্রধান ও সেনা সর্বাধিনায়ক। এদিকে, রেড রোডে পৌঁছে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এবারের সাধারণতন্ত্র দিবস কূটনৈতিক দিক থেকেও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বিদেশনীতির অভিমুখ কোনদিকে তারও ইঙ্গিত দেখা গেল এই অনুষ্ঠান থেকে। আমন্ত্রিত ছিলেন ইউরোপীয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তনিও কোস্টা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ভন। বিশ্বজুড়ে শুল্কের খাঁড়া হাতে ট্রাম্পের দাপাদাপির মাঝে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতা। দেশের গণতন্ত্র, সংস্কৃতি সামরিক শক্তি বিশ্বের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি নয়া কূটনৈতিক পথচলা শুরু হল ভারতের।
