দেশজুড়ে ভোটচুরি নিয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় নেমেছে দেশের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেস। সাংবাদিক সম্মেলন করে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি-র বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। এবার সেই দাবিকে আরও জোড়াল করবে আরজেডি-র (RJD) নতুন দাবি। দেশজুড়ে ব্যালট পেপারে ভোট করার দাবি তুলতে শুরু করেছে তারা।
গতবছর বিহার বিধানসভা নির্বাচনে লজ্জাজনক হারের সম্মুখিন হয় আরজেডি। আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় তাদের। প্রায় হারের মুখ থেকে ফিরে এসে কোনওমতে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হয়েছেন তেজস্বী যাদব। এই হারের পর এবার রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) নতুন প্রচার শুরু পরিকল্পনা করছে বলে জানা গিয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের সমস্ত নির্বাচন ব্যালট পেপারের করার জন্য দেশব্যাপী প্রচার শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
সম্প্রতি পাটনায় অনুষ্ঠিত হয় আরজেডি-র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা। এই বৈঠকে তেজস্বীকে দলের জাতীয় কার্যকরী সভাপতি নির্বাচন করা হয়। এই বৈঠকে, দলের অন্দরে একটি প্রস্তাব পাস হয়। দাবি করা হয়, 'অর্থ এবং সরকারের ক্ষমতা' ব্যবহার করে 'জনগণের ম্যান্ডেট'কে প্রভাবিত করা হয়েছে।
এই সভায় দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তেজস্বী যাদব বলেন, তিনি দেশজুড়ে এই প্রচারের জন্য বিভিন্ন বিরোধী নেতার সঙ্গে দেখা করবেন। এই প্রচারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের উপরে চাপ সৃষ্টি করা হবে যাতে পরবর্তী সব নির্বাচন ব্যালট পেপারে করা হয়। আরজেডি-র কার্যকরী সভাপতি পদে বসার পরেই তেজস্বী জানিয়েছেন, তাঁর নেতৃত্বে দল ফের জাতীয় দলের তকমা ফিরে পাওয়ার জন্য যা যা করা দরকার, সেই সব কিছু করবে।
গত নির্বাচনে বিহারের ২৪৩ আসনের মধ্যে মাত্র ২৫ আসন জিতেছে আরজেডি। এরপরেই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলে লালুর দল। নিজেদের হারের জন্য ইভিএম-কে দায়ী করে তারা। বিহারের প্রাক্তন আরজেডি সভাপতি জগদানন্দ সিং অভিযোগ করেন, "ভোট শুরু হওয়ার আগেই প্রতিটি ইভিএমে ২৫ হাজার ভোট ছিল... এবং আমরা এর পরেও ২৫টি আসন জিততে পেরেছি। এর থেকেই দেখা যায় দেশ কোন দিকে যাচ্ছে।"
যদিও, সিং-এর অভিযোগ অস্বীকার করে বিহারের নির্বাচন কমিশন। বিহারের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানান, 'জগদানন্দ সিংহের করা অভিযোগ, প্রতিটি ইভিএমে ২৫ হাজার প্রি-লোডেড ভোট রয়েছে, তা প্রযুক্তিগতভাবে অসম্ভব, পদ্ধতিগতভাবে মিথ্যা এবং আরজেডির নিজস্ব নির্বাচন ও পোলিং এজেন্টদের স্বাক্ষরিত নথিবদ্ধ রেকর্ডের বিরোধী।"
