শিল্প এবং প্রযুক্তির মেলবন্ধনে দেশের নতুন মেডটেক হাব হওয়ার পথে উত্তরপ্রদেশ। এবার যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে শিল্পাঞ্চল সংলগ্ন মেডিক্যাল ডিভাইসেস পার্কে পা রাখতে চলেছে প্রখ্যাত ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা শুক্রা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। মঙ্গলবার ওই সংস্থাকে ১০ একর জমির বরাদ্দপত্র তুলে দিয়েছে যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে শিল্প কর্তৃপক্ষ (YEIDA)। সব মিলিয়ে এই প্রকল্পে প্রায় ৫৮৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ হতে চলেছে।
এই প্রকল্পের সবথেকে বড় আকর্ষণ হল ‘বোরন নিউট্রন ক্যাপচার থেরাপি’ প্রযুক্তির উৎপাদন। জটিল ক্যানসার নিরাময়ে এই পদ্ধতি বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত কার্যকরী হিসেবে পরিচিত। উত্তরপ্রদেশের এই ইউনিটে এই প্রযুক্তির যন্ত্র তৈরি হলে ভারত বিশ্ব স্বাস্থ্য মানচিত্রে অনন্য জায়গা করে নেবে।
শুধু ক্যানসার নয়, হৃদরোগ এবং অস্ত্রোপচারের কাজে ব্যবহৃত একাধিক উন্নত মানের যন্ত্র তৈরি হবে এই কারখানায়। সিটি স্ক্যানার, এমআরআই, পেট স্ক্যান এবং আলট্রাসোনোগ্রাফি মেশিনের পাশাপাশি তৈরি হবে হার্ট ভালভ ও স্টেন্ট। আধুনিক অস্ত্রোপচারের জন্য সফট টিস্যু সার্জিক্যাল রোবট এবং অর্থোপেডিক রোবটিক সিস্টেমও তৈরি হবে এখানে। এর ফলে জটিল অস্ত্রোপচার আরও নির্ভুল ও নিরাপদ হবে।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের উদ্যোগে এই প্রকল্প রাজ্যে ব্যাপক কর্মসংস্থানের আশা জাগিয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এই শিল্প ইউনিটটি চালু হলে প্রায় ৯০০ জন সরাসরি কাজ পাবেন। পরোক্ষভাবে যুক্ত হতে পারবেন আরও ২০০০ মানুষ। উৎপাদন ছাড়াও গবেষণা ও উন্নয়ন এবং গুণমান যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন হবে।
কারখানার পাশেই চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি অত্যাধুনিক ‘সিমুলেটর সেন্টার’ গড়া হবে। সেখানে ডাক্তার, নার্স ও প্যারামেডিক্যাল কর্মীদের আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। উত্তরপ্রদেশ সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের এটি এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ইনভেস্ট ইউপির উদ্যোগে এই প্রকল্প উত্তরপ্রদেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
