সেঞ্চুরির পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল ডলার পিছু টাকার দাম (Indian Rupee Fall)। সোমবার বাজার খুলতেই সর্বকালীন রেকর্ড গড়ে ১ ডলার পিছু টাকার দাম হল ৯৬.২৫। অর্থাৎ এদিন আরও ৪৪ পয়সা কমেছে টাকার দাম। মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা ও অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির জেরে টাকার দাম ক্রমাগত নিম্নমুখী হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। টাকার দামের পাশাপাশি দেশের শেয়ার বাজারেও বিরাট রক্তক্ষরণ দেখা গিয়েছে এদিন।
গত ৪ মার্চ প্রথমবার মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ধাক্কায় টাকার দাম ৭০ পয়সা বেড়ে ৯২-এর গণ্ডি ছাপিয়ে যায়। মার্কিন ডলারের দাম দাঁড়ায় ৯২.১৭ টাকা। এরপর থেকে টানা রক্তক্ষরণ চলছে টাকার দামে। ১২ মে সর্বকালীন রেকর্ড পতনের জেরে এক মার্কিন ডলার পিছু টাকার দাম হয় ৯৫.৫৮। এরপর সোমবার ফের নিচে নামে টাকা ৪৪ পয়সা কমে বর্তমানে টাকার দাম দাঁড়িয়েছে ৯৬.২৫।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং তার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি-এই কারণেই ভারতীয় মুদ্রার উপরে চাপ বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং তার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি-এই কারণেই ভারতীয় মুদ্রার উপরে চাপ বাড়ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মাটিতে যৌথ হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। দেড় মাস যুদ্ধের পর আপাতত দুই পক্ষ সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ফেরানোর প্রস্তাব নাকচ করে চলেছে দুই দেশই। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ বন্ধ হওয়ার তৈরি হয়েছে জ্বালানি সংকট। যার গুরুতর প্রভাব পড়েছে ভারতে। যদিও আশার কথা হল, পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হওয়ার আগেই তা সামাল দিতে সরকার এবং আরবিআই উভয়ই সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে।
তবে শুধু টাকার দাম নয়, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার বিরাট প্রভাব পড়েছে ভারতের শেয়ার বাজারেও। সোমবার বাজার খোলার পর প্রায় ৯৫০ পয়েন্ট পড়ে যায় সেনসেক্স। পাল্লা দিয়ে নামে নিফটিও। তবে শেষ পর্যন্ত বাজার কিছুটা সংশোধন হয়েছে। সকাল ১০.৫০ নাগাদ বিএসই সেনসেক্স ৬৪৫.০০ পয়েন্ট অর্থাৎ ০.৮৬ শতাংশ নেমে দাঁড়িয়েছে ৭৪,৫৯২.৯৯তে। পাল্লা দিয়ে নেমেছে নিফটিও। রিপোর্ট বলছে, নিফটি ২০৬.৩০ পয়েন্ট অর্থাৎ ০.৮৭ শতাংশ নেমে দাঁড়িয়েছে ২৩,৪৩৭.২০তে। ব্যাঙ্ক নিফটিতেও বিরাট পতন দেখা গিয়েছে। ৬৮৫.৬০০ পয়েন্ট অর্থাৎ ১.২৮ শতাংশ নেমে বর্তমানে ব্যাঙ্ক নিফটির অবস্থান ৫৩,০২৪.৭৫-তে।
