উমর খালিদের জামিন নিয়ে নিজেদের পূর্ববর্তী রায়ের সমালোচনা করল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার শীর্ষ আদালত মনে করিয়ে দিয়েছে, UAPA আইনেও জামিন পাওয়াটাই নিয়ম। ২০২১ সালের একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া রায় উল্লেখ করেই এদিন বলা হয়েছে, উমরদের ক্ষেত্রে যথাযথভাবে শীর্ষ আদালতের রায় পালন করা হয়নি। উল্লেখ্য, ২০২০ থেকে জেলে বন্দি রয়েছেন উমর। দিনকয়েক আগেই তাঁর জামিনের আবেদন আবারও খারিজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
গত ৫ জানুয়ারি দিল্লি দাঙ্গার ঘটনায় UAPA মামলায় অভিযুক্ত উমর খালিদ এবং শারজিল ইমামের জামিন আবেদন খারিজ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। অন্যদিকে, একই মামলায় অভিযুক্ত বাকি পাঁচজন— গুলফিশা ফাতিমা, মীরান হায়দার, শিফা-উর-রেহমান, মহম্মদ শাকিল খান এবং শাদাব আহমেদকে জামিন দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। ১৬ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টে দুই বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, পুনর্বিবেচনার আবেদনপত্র এবং সংযুক্ত নথিগুলি পর্যালোচনা করার পর ২০২৬ সালের ৫ই জানুয়ারি তারিখের রায়টি পুনর্বিবেচনা করার মতো উপযুক্ত ভিত্তি ও কারণ আমরা খুঁজে পাইনি। ফলে পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করা হয়েছে।
২০২১ সালে শীর্ষ আদালতের তিন সদস্যের বেঞ্চ রায় দিয়েছিল ইউএপিএ-র আওতায় গ্রেপ্তারিতে বিচার প্রক্রিয়ায় প্রচুর দেরি হলে অভিযুক্তের জামিন হওয়া উচিত। কিন্তু বিচারপতিদের মতে, সেই রায় মানা হয়নি উমরদের পুনর্বিবেচনার আবেদনে।
আবেদন পুনর্বিবেচনা খারিজের সুপ্রিম সিদ্ধান্তেরই সমালোচনা এদিন শোনা গিয়েছে দুই বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং উজ্জ্বল ভুঁইয়ার মুখে। ২০২১ সালে শীর্ষ আদালতের তিন সদস্যের বেঞ্চ রায় দিয়েছিল ইউএপিএ-র আওতায় গ্রেপ্তারিতে বিচার প্রক্রিয়ায় প্রচুর দেরি হলে অভিযুক্তের জামিন হওয়া উচিত। কিন্তু বিচারপতিদের মতে, সেই রায় মানা হয়নি উমরদের পুনর্বিবেচনার আবেদনে। বিচারপতি ভুঁইয়া বলেন, "কম সদস্যের বেঞ্চ সবসময় বেশি সদস্যের বেঞ্চের দেওয়া রায় মানবে। সমস্যা হলে মামলাটি বেশি সদস্যের বেঞ্চে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে। কিন্তু আগের দেওয়া রায়ের বিরোধিতা করতে পারে না।"
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, দিল্লি হিংসায় অভিযুক্ত হয়ে কার্যত বিনা বিচারেই পাঁচ বছর জেলে কাটিয়ে ফেলেছেন উমর খালিদ। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্যের পর কি আবারও জামিন চেয়ে আবেদন করবেন এই ছাত্রনেতা? সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে কি তিনি জামিন পাবেন? একরাশ প্রশ্ন রয়েই গেল।
