ইন্টারনেটের কারণেই ধর্ষণ বাড়ছে! বিতর্কিত মন্তব্য করলেন সমাজবাদী পার্টির নেতা সৈয়দ তুফেল হাসান। তাঁর কথায়, ইন্টারনেটের কারণে তরুণদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বেড়ে যায়। তার ফলে নিজেদের যৌন ইচ্ছা সংবরণ করতে পারে না তরুণরা। সেকারণেই সমাজে ধর্ষণ বাড়ছে বলে মত হাসানের। উল্লেখ্য, শনিবার কংগ্রেসের এক বিধায়ক বলে বসেন, সুন্দরী মহিলাদের দেখে বিভ্রান্ত হয়ে পুরুষরা ধর্ষণ করে। তারপর প্রকাশ্যে এসেছে সমাজবাদী পার্টির নেতার মন্তব্য।
সংবাদসংস্থা এএনআইয়ের তরফ থেকে কংগ্রেস বিধায়কের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হাসানকে। জবাবে তিনি বলেন, "ধর্ষণের নেপথ্যে দু'টি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমত, মদ্যপান। পুরুষরা মদ্যপান করলে স্ত্রী-কন্যার মধ্যেই তফাত করতে পারেন না। আর দ্বিতীয় কারণ ইন্টারনেট। বর্তমানে নেটদুনিয়ায় প্রচুর অশ্লীল কন্টেন্ট ছড়িয়ে রয়েছে। সেই দেখে পুরুষদের, বিশেষত কমবয়সি তরুণদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বেড়ে যায়। তাই ওরা নিজেদের যৌন ইচ্ছা সংবরণ করতে পারে না।" হাসানের কথায়, ধর্ষকদের রাস্তার মাঝখানে নিয়ে এসে গুলি করা উচিত।
উল্লেখ্য, ভান্দেরের বিধায়ক ফুল সিংহ বারাইয়া দাবি করেন, , “ভারতে সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের শিকার তফসিলি জাতি, জনজাতি এবং অন্যান্য অনগ্রসর সম্প্রদায়ের মহিলারা। ধর্ষণের তত্ত্ব হল, কোনও পুরুষ, যে কোনও মানসিক পরিস্থিতিতেই হোক, রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় যদি সুন্দরী মহিলাকে দেখেন, তাতে তাঁর মন বিভ্রান্ত হতে পারে এবং তিনি ওই মহিলাকে ধর্ষণ করতে পারেন। কিন্তু এসসি, এসটি, ওবিসি মহিলারা তো সুন্দর নন। কিন্তু তাঁরা ধর্ষিতা হন, কারণ এ সব প্রাচীন পুঁথিতে বলা আছে।”
কংগ্রেস বিধায়কের এই মন্তব্য নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কিন্তু সমালোচনা করতে গিয়ে নতুন করে বিতর্ক বাঁধিয়েছেন সপা নেতা। প্রশ্ন উঠছে, ধর্ষণের মতো বিষয় নিয়ে কেন এরকম মন্তব্য শোনা যাচ্ছে রাজনৈতিক নেতাদের মুখে? কোনও ভাবনাচিন্তা ছাড়া, যুক্তিকে কার্যত বিসর্জন দিয়ে কেন একের পর এক নেতা মন্তব্য করে চলেছেন? নারী সুরক্ষা নিয়ে পদক্ষেপ করার পরিবর্তে এহেন মন্তব্য করলে সমস্যার সুরাহা হবে না, বলছে ওয়াকিবহাল মহল।
