মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ভারতের পকেটে টান। ইরান যুদ্ধে জেরে লাগাতার রক্তক্ষরণ দেশের শেয়ার বাজারে। শুক্রবারও তার ব্যতিক্রম হল না। এদিনও একধাক্কায় প্রায় ১৫০০ পয়েন্ট পড়েছে সেনসেক্স। পাল্লা দিয়ে নেমেছে নিফটিও। যার জেরে মাত্র কয়েক ঘণ্টায় উধাও হয়ে গিয়েছে বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৯ লক্ষ কোটি টাকা। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে যে কোনও রকম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
শুক্রবার সকালে বাজার খোলার পরই ধস নামতে দেখা যায় বাজারে। সেনসেক্স ৬৬০ পয়েন্ট পতনের সঙ্গে বাজার খোলে এদিন। এরপর বেলা যত বাড়তে থাকে লাগাতার নিম্নমুখী হয় বাজার। বাজার বন্ধ হওয়ার পর দেখা যায় সেনসেক্স ১৪৭০.৫০ পয়েন্ট অর্থাৎ ১.৯৩ শতাংশ নেমে দাঁড়িয়েছে ৭৪,৫৬৩.৯২তে। পাল্লা দিয়ে নেমেছে নিফটিও। রিপোর্ট বলছে, দিন শেষে নিফটি ৪৮৮.০৫ পয়েন্ট অর্থাৎ ২.০৬ শতাংশ নেমে দাঁড়িয়েছে ২৩,১৫১.১০তে। ব্যাঙ্ক নিফটিতেও বিরাট পতন দেখা গিয়েছে। ১৩৪৩.১০ পয়েন্ট অর্থাৎ ২.৪৪ শতাংশ নেমে বর্তমানে ব্যাঙ্ক নিফটির অবস্থান ৫৩,৭৫৭.৮৫-তে।
বেহাল বিশ্ববাজারে সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেয়েছে এলটি (-৭.৫%), জিন্দাল স্টিল (-৬.৬৭%), হিন্দুস্থান জিঙ্ক (-৫.৩৩%), টাটা স্টিল (-৫.১৫%), অম্বুজা সিমেন্ট (-৪.৭৩%), ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক (-৪.৫১%)-র মতো শেয়ারগুলি। এই খারাপ অবস্থার মাঝেই ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে টাটা কনজিউমার (+২.৪৪%), হুন্ডাই মোটর (+১.১৭%), হিন্দুস্থান ইউনিলিভার (+১.০৮%), ব্রিটানিয়া (+০.৩৭%), ভারতী এয়ারটেল (+০.১২%)-এর মতো শেয়ারগুলি।
এহেন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বাজার বিশ্লেষকদের পরামর্শ, আপাতত বড় লাভের আশা না করাই ভালো। খুব সতর্ক থেকে ট্রেডিং করতে হবে। তবে হুড়মুড় করে শেয়ার বিক্রি করে ফায়দা তোলাটাও খুব একটা লাভজনক হবে না। অতীত উদাহরণ টেনে বিশ্লেষকরা বলছেন, কোভিড অতিমারী হোক বা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ-প্রাথমিক আতঙ্ক কেটে গেলেই বাজার ফের উর্ধ্বমুখী হয়েছে। সেকথা মাথায় রেখেই বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
