ধসের গেরো কাটিয়ে অবশেষে মাথাচাড়া দিল দালাল স্ট্রিটের ষাঁড়। ট্রাম্পের থেকে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ থামার ইঙ্গিত মিলতেই সবুজ সিগন্যালে ছুটল সেনসেক্স। মঙ্গলবারের পর বুধবার প্রায় ১৫০০ পয়েন্ট বেড়েছে সেনসেক্সের সূচক, পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নিফটিও। সবমিলিয়ে যুদ্ধ যদি নতুন করে বাড়াবাড়ির পর্যায়ে না যায় সেক্ষেত্রে শেয়ারে বাজারে (Stock Market News) সুদিন ফিরতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত ৪৮ ঘণ্টায় পশ্চিম এশিয়া রণভূমি থেকে একাধিক আশানুরূপ বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার প্রথমে সাময়িক যুদ্ধবিরতির বার্তা দিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এরপরই মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে পতন দেখা যায়। মঙ্গলবার তার প্রভাব পড়ে শেয়ার বাজারে। এরপর মঙ্গলবার ট্রাম্প জানান, ইরান থেকে তাঁকে বহুমূল্য উপহার পাঠানো হয়েছে এবং পরমাণু অস্ত্রের পথ ছেড়ে বেরিয়ে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির লক্ষ্য ১৫ দফা শর্তও দেওয়া হয়ে ট্রাম্পের তরফে। এই ঘটনার পরই বুধ সকালে চড়চড়িয়ে বাড়ে দালাল স্ট্রিট। প্রায় ১৫০০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায় সেনসেক্স, নিফটি বাড়ে ৪০০ পয়েন্ট। যদিও বেলাশেষে ইরান মার্কিন শর্ত প্রত্যাখ্যান করলে কিছুটা নিম্নমুখী হয় বাজার।
সেনসেক্স ১০৯৬.১১ পয়েন্ট অর্থাৎ ১.৪৮ শতাংশ বেড়ে পৌঁছে গিয়েছে ৭৫,১৬৪.৫৬তে।
বুধবার শেয়ার বাজার বন্ধ হওয়ার পর দেখা যায় সেনসেক্স ১০৯৬.১১ পয়েন্ট অর্থাৎ ১.৪৮ শতাংশ বেড়ে পৌঁছে গিয়েছে ৭৫,১৬৪.৫৬তে। পিছিয়ে নেই নিফটিও। রিপোর্ট বলছে, দিন শেষে নিফটি ৩৯৪.০৫ পয়েন্ট অর্থাৎ ১.৭২ শতাংশ বেড়ে পৌঁছে গিয়েছে ২৩,৩০৬.৪৫তে। ব্যাঙ্ক নিফটিতেও বিরাট বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। ১০৫৬.৩৫ পয়েন্ট অর্থাৎ ২.০১ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে ব্যাঙ্ক নিফটির অবস্থান ৫৩,৬৬২.০০-তে।
যে শেয়ারগুলিতে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে সেগুলি হল, শ্রীরাম ফিনান্স (+৫.৮০%), হিন্দুস্থান জিঙ্ক (+৪.১৫%), কল্যাণ জুয়েলার্স (+৫.৪২%), শ্রী সিমেন্ট (+৩.৮৮%), বাজাজ ফিনান্সের (+৩.৯৮%) মতো শেয়ারগুলিতে। পাশাপাশি এই ভরা বাজারেও পতন লক্ষ্য করা গিয়েছে টেক মহিন্দ্রা (-১.৬৯%), পাওয়ার গ্রিড কর্প (-১.৩৪%), টাটা কনসালটেন্সি (-০.৮৯%), ভারত ইলেকট্রনিক্স (-০.২৪%), অয়েল ইন্ডিয়া লিমেটেডের (-১.৩৭%) মতো শেয়ারগুলিতে।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের ঘোষণায় অপরিশোধিত তেলের দামে পতনের জেরে শেয়ার বাজারে বৃদ্ধি ঘটলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে এখনও বাজারে স্থিরতা আসেনি। ট্রাম্প আলোচনার প্রস্তাব দিলেও ইরানের তরফে এখনও কোনও সদুত্তর আসেনি। ফলে এখনই শেয়ারবাজারে কোনও বড় বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
