নিজেদের গোঁয়ার্তুমিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা হয়নি বাংলাদেশের। এর জন্য ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে খেলোয়াড়দের মতানৈক্যের খবর প্রকাশ্যে আসে। তার উপর তৎকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা ক্রিকেটারদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়েছিলেন। তবে নতুন সরকার গঠনের পর সেই ছবিটা পালটাতে চেষ্টা করছে বিসিবি। দলে আবারও শাকিব আল হাসানকে ফেরানোর চেষ্টা শুরু করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। নতুন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার। তিনি চান, অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার অন্তত আরও দু'বছর জাতীয় দলের হয়ে খেলুক এবং ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপেও অংশ নিক।
২০২৪ সালের মে মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে টি২০ সিরিজ খেলার জন্য দেশ ছেড়েছিলেন শাকিব। আর দেশে ফেরা হয়নি তাঁর। তবুও তিনি অপেক্ষার প্রহর গুনছেন দেশে ফেরার প্রবল আগ্রহ নিয়ে। তাই প্রাক্তন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে দেশে ফেরাতে কিছু উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি। নতুন করে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার শাকিবের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুলে বাশার বলেন, “শাকিবকে আমরা শুধুমাত্র একটা সিরিজের জন্য ভাবছি না। যদি ওকে দলে ফেরানো যায়, তাহলে দীর্ঘ সময়ের জন্যই পরিকল্পনা করা হবে। প্রস্তুতি ছাড়া ও হঠাৎ এসে খেলবে, এমনটা ভাবা ঠিক নয়।”
তবে আগামী ১৭ এপ্রিল থেকে শুরু হতে চলা নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল-এর বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে সাদা বলের সিরিজে শাকিবকে দেখা যাবে না বলেই জানিয়েছেন বাশার। তাঁর কথায়, “নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে সময় খুব কম। শাকিব এখন কতটা ম্যাচ ফিট, সেটা আমরা জানি না। তাই তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।” উল্লেখ্য, মাসখানেক আগে বিসিবি সূত্রে জানা গিয়েছিল, শাকিবকে জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ করে দিতে তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর নিষ্পত্তি চেয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে সহযোগিতা চেয়ে। এ ব্যাপারে শাকিবকেও সব জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, শাকিবের ভবিষ্যৎ নিয়ে নির্বাচক প্রধান আশাবাদী। তিনি বলেন, “আমি মনে করি শাকিবের এখনও অন্তত দু'বছর ক্রিকেট বাকি আছে। আমরা চাই ও দীর্ঘ সময় দলে থাকুক। এমনকী ২০২৭ বিশ্বকাপ অংশ নিক।” উল্লেখ্য, ২০১১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন হাবিবুল বাশার। এবার প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব নিয়ে দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে শাকিবকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ফেরাতে চাইছেন তিনি।
