শুনানি শেষ। ফের কলম হাতে যোগ-বিয়োগের অঙ্ক শুরু কমিশনের। শনিবার পর্যন্ত প্রায় ৬৪ লক্ষ ৬১ হাজার লোকের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে অবধারিতভাবে বাদ যাচ্ছে। এর মধ্যে খসড়া তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষ বাদ গিয়েছিল। এবার ৪ লক্ষ ৯৮ হাজার শুনানিতেই হাজির হননি। আর জমা দেওয়া নথি বাতিলের সংখ্যা ১ লক্ষ ৬৩ হাজার। এখনও ৫০ লক্ষের বেশি নথি যাচাই বকেয়া রয়েছে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে এত সংখ্যক তথ্য যাচাই শেষ করা নিয়ে আশঙ্কার দোলাচলে নির্বাচন কমিশন।
শনিবারই রাজ্যে নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন-শুনানির শেষ দিন। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি। কমিশন সূত্রে খবর, শুনানিতে গরহাজির থাকা ভোটারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি রয়েছে মতুয়া অধ্যুষিত উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়। শনিবার পর্যন্ত হিসাবে, সেখানে ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ভোটার নোটিস পাওয়ার পরেও শুনানি কেন্দ্রে যাননি। এ ছাড়া দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় প্রায় ৪৬ হাজার ভোটার শুনানিতে হাজির হননি। কলকাতাতেও বহু ভোটার শুনানিতে হাজির হননি। কমিশন সূত্রে খবর, দক্ষিণ কলকাতার ক্ষেত্রে এমন ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২২ হাজার। উত্তর কলকাতার ক্ষেত্রে সংখ্যাটি প্রায় ২০০০। কালিম্পঙেও ৪৪০ জন ভোটার শুনানিতে অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কমিশনের কাছে যা তথ্য এসেছে, তাতে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪ লক্ষ ৯৮ হাজার ভোটারের নাম বাদ যাচ্ছে। পাশাপাশি, অযোগ্য হিসাবে বাদ যাচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৬৩ হাজার ভোটারের নাম। এখনও পর্যন্ত মোট ৬ লক্ষ ৬১ হাজার ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার হিসাব পাওয়া গিয়েছে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল বলেন, “কত জন শুনানিতে অংশগ্রহণ করেননি, সেই সঠিক তথ্য আমার কাছে নেই। কিন্তু যাঁর নাম খসড়া তালিকায় ছিল, কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় নেই, তাঁদের আবেদন করার সুযোগ থাকছে। যদি কোনও ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকে, তাঁরা আবেদন করতে পারবেন। এটি শেষও নয়, শুরুও নয়। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা হওয়ার পরেও যোগ-বিয়োগ চলবেই।” এসআইআর চলাকালীন ভোটার তালিকায় যাঁদের ছোটখাটো ভুল ছিল, সেগুলোরও সংশোধন হয়েছে, এমনটাই জানালেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। তবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর যদি কোনও অনিয়ম ধরা পড়ে তার জন্য ইআরও-রা দায়ী থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন। কারণ, তথ্য যাচাই করে তা আপলোড করা তাঁদের দায়িত্ব। যদিও আপলোড করা তথ্য মাইক্রো অবজার্ভার ও রোল অবজার্ভাররা খতিয়ে দেখবেন। কিন্তু নাম বাদ দেওয়া বা যুক্ত করতে পারবেন না। কোনও গলদ ধরা পরলে ফের এইআরও-র কাছে পাঠিয়ে দেবে।
ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চলাকালীন রাজ্যে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে বা অন্যত্র চলে গিয়েছেন। তাঁদের ক্ষেত্রে কমিশনের দেওয়া ফর্ম-৭ পূরণ করতে হবে। এদিন পর্যন্ত কমিশনের কাছে ৪২ হাজার ৫০১ জন এই আবেদন জানিয়েছেন বলে কমিশন সূত্রে খবর।
