রাত ফুরালেই রাজ্যে এসআইআর শুনানি শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু বেশ কয়েকটি জেলা এখনও অনেকটাই পিছিয়ে। তাই অতিরিক্ত ৩-৪দিন সময় চেয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানালেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও মালদহ-সহ বেশ কয়েকজন জেলাশাসক। তাঁদের আবেদন ইতিমধ্যেই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। শুনানির জন্য অতিরিক্ত কয়েকদিন দেওয়া হলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশও পিছিয়ে দিতে হবে বলে মনে করছেন কমিশনের কর্তারা। এদিন বেশ কয়েকটি দাবি নিয়ে কমিশনের দ্বারস্থ হন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি।
তথ্যে অসঙ্গতি ও আনম্যাপড মিলিয়ে মোট ১ কোটি ৫১ লক্ষ ৯২ হাজার ৭৩৫ জনকে শুনানিতে ডেকেছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সকলের কাছে শুনানির নোটিস পৌঁছলেও ১ কোটি ৩০ লক্ষের কাছাকাছি শুনানি শেষ হয়েছে। কমিশনের দেওয়া তথ্যই বলছে, এখনও প্রায় ২২ লক্ষ শুনানি বাকি রয়েছে। আবার এর মধ্যে ৮০ লক্ষের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়েছে। প্রায় ৭২ লক্ষের তথ্য যাচাই বাকি। অথচ হাতে মাত্র দু’দিন। তার মধ্যে শুনানি শেষ করতে হবে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই কাজ শেষ করা কার্যত অসম্ভব।
বেশ কয়েকটি জেলায় এসআইআর শুনানির কাজ এখনও অনেকটাই পিছিয়ে। তাই অতিরিক্ত ৩-৪দিন সময় চেয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানালেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও মালদহ-সহ বেশ কয়েকজন জেলাশাসক।
পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় আগেভাগেই অতিরিক্ত সময় চেয়ে রাখলেন জেলাশাসকরা। এদিন বেশ কয়েকজন জেলা শাসক কমিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন বলে কমিশন সূত্রে খবর। আবার দু’টি বিধানসভা কেন্দ্র যেমন কার্শিয়াং ও মেটিয়াবুরুজে শুনানি ঢিমেতালে চলছে। সেখানে শুনানিতে গতি আনতে আরও ৫০ জন AERO নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিল কমিশন। কমিশনের শীর্ষ কর্তাদের মতে, সময়মতো শুনানি শেষ না হলে সময়সীমা বাড়াতেই হবে। সেক্ষেত্রে ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ অসম্ভব।
এদিন থেকে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ ২৫ জন আমলাই প্রশিক্ষণে যোগ দিয়েছেন। কমিশনের তরফে জানান হয়, দেশ থেকে ১৪৪৪ জন আমলা প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দেন। তার মধ্যে ৭১৪ জন পর্যবেক্ষক, ২৩৩ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক, ৪৯৭ জন অর্থ পর্যবেক্ষক রয়েছেন। পর্যবেক্ষকদের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্দিষ্ট রাজ্যের বুথ পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন বলে সূত্রের খবর।
