তৃণমূলের চাপে পড়ে এসআইআর শুনানির শেষ পর্বে নিয়ম বদলে বাধ্য হল নির্বাচন কমিশন। এবার থেকে কমিশন নির্ধারিত ১১ নথির পাশাপাশি গণ্য হবে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট বা পারমানেন্ট রেসিডেন্স সার্টিফিকেট। শনিবার নির্বাচন কমিশনের তরফে রাজ্য নির্বাচনী দপ্তরকে তা জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে শর্তও রয়েছে। কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক ও মহকুমা শাসকের সই সম্বলিত শংসাপত্রই একমাত্র গৃহীত হবে। অন্য কারও সই করা সার্টিফিকেট নথি হিসেবে গ্রাহ্য নয়। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন পর্বে কমিশনের নয়া সংযুক্তির ঘোষণা নিঃসন্দেহে ভোটারদের কাছে বড়সড় স্বস্তি।
ডোমিসাইল সার্টিফিকেট গ্রাহ্য করে কমিশনের নির্দেশিকা।
এসআইআরের শুরু থেকে কমিশনের একাধিক নির্দেশিকা নিয়ে আপত্তি তুলেছিল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। ভোটার তালিকায় নাম থাকার জন্য যেসব নথি নির্বাচন কমিশন দিয়েছিল, তার মধ্যে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড অথবা ডোমিসাইল সার্টিফিকেট ছিল না। তা নিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রশ্ন তুলেছিলেন, বিহারে এসআইআরের সময় ডোমিসাইল সার্টিফিকেট গ্রহণ করা হলে বাংলায় কেন হচ্ছে না? একই প্রশ্ন ছিল মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড নিয়েও। এমনকী গত বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর শুনানি চলাকালীন তিনি নিজে সওয়াল করতে গিয়েই এই প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখেন। মনে করা হচ্ছে, তৃণমূলের চাপ এবং বিহার-বাংলার জন্য পৃথক নিয়ম নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েই শুনানি পর্বের একেবারে শেষবেলায় ডোমিসাইল সার্টিফিকেট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিল কমিশন।
কমিশন নির্ধারিত ১১ নথির পাশাপাশি গণ্য হবে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট বা পারমানেন্ট রেসিডেন্স সার্টিফিকেট। শনিবার নির্বাচন কমিশনের তরফে রাজ্য নির্বাচনী দপ্তরকে তা জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে শর্তও রয়েছে। কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক ও মহকুমা শাসকের সই সম্বলিত শংসাপত্রই একমাত্র গৃহীত হবে।
কী এই ডোমিসাইল সার্টিফিকেট? স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে নাগরকিদের কাছে থাকা রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দ্বারা স্বীকৃত প্রতিনিধিদের দেওয়া শংসাপত্র, যা স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার প্রমাণ। অন্তত ১৫ থেকে ২০ বছর যাঁরা একই এলাকায় রয়েছেন, তাঁরাই এই সার্টিফিকেট পাওয়ার যোগ্য। এই শংসাপত্রে সই থাকে জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমা শাসকের মতো প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্তদের।
কী এই ডোমিসাইল সার্টিফিকেট? স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে নাগরকিদের কাছে থাকা রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দ্বারা স্বীকৃত প্রতিনিধিদের দেওয়া শংসাপত্র, যা স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার প্রমাণ। অন্তত ১৫ থেকে ২০ বছর যাঁরা একই এলাকায় রয়েছেন, তাঁরাই এই সার্টিফিকেট পাওয়ার যোগ্য। এই শংসাপত্রে সই থাকে জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমা শাসকের মতো প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্তদের।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে বিহারে এসআইআর পর্বে ভোটারদের থেকে প্রমাণ হিসেবে যে সমস্ত নথি গ্রহণ করেছিল নির্বাচন কমিশন, তার মধ্যে ছিল এই ডোমিসাইল সার্টিফিকেটও। কিন্তু বাংলার ক্ষেত্রে তা বাদ দেওয়া হয়েছিল। ফলে অনেক সময়েই কমিশন নির্ধারিত নথি জোগাড় করতে কার্যত হিমশিম খেতে হয়েছে ভোটারদের। আজ, ৭ ফেব্রুয়ারি শুনানির শেষ দিন নির্বাচন কমিশন জানাল, ডোমিসাইল সার্টিফিকেট গৃহীত হবে। কয়েকটি জেলায় শুনানি পর্ব এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। সেসব জেলায় শুনানির সময় বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তর। সেই আবেদন গ্রাহ্য হলে শুনানির পরবর্তী দিনগুলিতে এই ডোমিসাইল সার্টিফিকেট প্রামাণ্য নথি হিসেবে দাখিল করতে পারবেন শুনানিতে ডাক পাওয়া ভোটাররা।
