লাদাখের গণবিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। আর সেই কারণেই গত বছরের সেপ্টেম্বরে সমাজকর্মী ও গবেষক সোনম ওয়াংচুককে (Sonam Wangchuk) আটক করা হয়। তারপর থেকে রাজস্থানের যোধপুরের জেলেই দিন কাটছিল তাঁর। অবশেষে স্বস্তি পেলেন তিনি।
এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে যে বিবৃতি পেশ করা হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, 'লাদাখে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক ও অর্থবহ আলাপচারিতার পথ সুগম করার লক্ষ্যে, শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। এই লক্ষ্যে যথাযথ বিবেচনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সোনম ওয়াংচুককে আটক করে রাখার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লাদাখের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত সুরক্ষাকবচ দিতে সরকার তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে।'
গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর আটক করা হয় সোনমকে। এর দু'দিন আগে লাদাখে বিক্ষোভের সময় চারজনের মৃত্যু হয়। আহত হন ৫০ জন। তাঁদের মধ্যে নিরাপত্তা কর্মীরাও ছিলেন। জাতীয় নিরাপত্তা আইনে তাঁকে আটক করা হয় লেহ-র জেলাশাসকের নির্দেশে। জানানো হয় এলাকার আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। পরে তাঁকে যোধপুরের জেলে পাঠানো হয়। যদিও তাঁকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সেটা প্রথমে জানানো হয়নি। সেই থেকে সেখানেই আটক ছিলেন সোনম। জেলে হজম ও সংক্রমণজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন সোনম। পরে অবশ্য জানা যায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন তিনি। অবশেষে শনিবাসরীয় সকালে জানা গেল তাঁর মুক্তির কথা।
লাদাখকে পূর্ণরাজ্যের মর্যাদা দিতে হবে, ওই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটিতে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিল দ্রুত কার্যকর করতে হবে, লাদাখের জন্য পৃথক পাবলিক সার্ভিস কমিশন চালু করতে হবে এবং লাদাখে একটির বদলে দুটি লোকসভা কেন্দ্র তৈরি করতে হবে। এই দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছেন সোনম। ম্যাগসাইসাই জয়ী ওই গবেষকের দাবি ছিল, লাদাখ সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্তের কারণে ক্রমেই ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে এই এলাকা। সেই আন্দোলনই চরম আকার নেয় গত সেপ্টেম্বরে।
