পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের বাকি আর ৪ মাস। লড়াইয়ে ঝাঁপাতে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে সব রাজনৈতিক দলগুলি। এই ডামাডোলের মাঝেই শুক্রবার দিল্লি এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন শিরোমণি অকালি দলের প্রধান সুখবীর সিং বাদল। এই সাক্ষাতে জাতীয় রাজনীতিতে চর্চা শুরু হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, অতীতের অভিমান ভুলে ভোটের আগে ফের এনডিএ শিবিরে যোগ দিয়ে পারে আকালি দল। যদিও কোনও পক্ষই এই বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ।
১৯৯৬ সাল থেকে এনডিএ-র শরিক ছিল আকালি দল। পাঞ্জাব রাজ্য তো বটেই দিল্লিতে এনডিএ-র সরকার গঠনে মুখ্য ভূমিকা ছিল দলটির। তবে বিজেপি ও অকালি দলের সম্পর্কে দাঁড়ি পড়ে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে কৃষক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে। ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আলাদাভাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমে শোচনীয় ভাবে পরাস্ত হয় দুই দলই। পাঞ্জাবের নেতৃত্বে আসে আম আদমি পার্টি। সম্পর্কের সেই টানাপোড়েনের পর শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সুখবীর সিং বাদলের সাক্ষাৎ জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে, ২০২৭-এর বিধানসভা নির্বাচনে পাঞ্জাবে জোট বাঁধতে পারে বিজেপি ও অকালি দল।
বিজেপি ও অকালি দলের সম্পর্কে দাঁড়ি পড়ে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে কৃষক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে। ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আলাদাভাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমে শোচনীয় ভাবে পরাস্ত হয় দুই দলই।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর সুখবীর সিং বাদল বলেন, পাঞ্জাবের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পাঞ্জাবে আপ সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে দীর্ঘ এই বৈঠকে অন্য কোনও বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা তা নিয়ে মুখ খোলেনি কোনও পক্ষই। এই সাক্ষাতের বিষয়টি সামনে আসতেই সরব হয়েছে আম আদমি পার্টি। দলের আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল কটাক্ষ করে একটি হিন্দি গানের লাইন তুলে ধরে লিখেছেন, 'না না করতে পেয়ার তুমসে কর বেইঠি।' অর্থাৎ, 'না, না করতে করতে অবশেষে অকালি দল কি বিজেপির প্রেমে পড়ে গেল'। পাশাপাশি প্রশ্ন তুলে লেখেন, 'তবে কি অনুদান চোরের দল এবং বেয়াদপি পার্টি জোট করছে?' সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর, বিজেপি এবং শিরোমণি অকালি দলের সম্ভাব্য জোট নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
