দীর্ঘ সময়ে মহাশূন্যে কাটিয়ে পৃথিবীতে ফেরার রেকর্ড তাঁর দখলে। মহাকাশ গবেষণার মতো উচ্চশিক্ষায় তাঁর কাজ ও অবদান অবিস্মরণীয়। নারী ক্ষমতায়নে তিনি এক অনন্য নজির গড়েছেন। কিন্তু সম্প্রতি সমস্যায় ভুগছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভুত মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়মস। গত সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে ফেরার পর শারীরিক কিছু সমস্যা হয়েছিল। মহাকর্ষ কাটিয়ে শূন্যে বসবাস পরবর্তী এসব সমস্যায় ভোগেন নভশ্চররা। তবে সুনীতার 'রোগ' আরও গভীর। তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। আর তার মোক্ষম দাওয়াই হয়ে এল সুস্বাদু মিষ্টি পদ ফালুদা! কেরলের রেস্তরাঁয় সিমুই দিয়ে তৈরি ঠান্ডা ঠান্ডা ফালুদা খেয়ে একেবারে তৃপ্তির স্বাদ তাঁর মুখে! সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামের একটি ভিডিওতে তাঁর আনন্দের প্রতিক্রিয়া ধরা পড়েছে। নেটিজেনরাও তা দেখে বেশ মজা পেয়েছেন।
ফালুদা খেয়ে তৃপ্তিতে ভরপুর ভারতীয় বংশোদ্ভুত মহাকাশচারী। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
ইনস্টাগ্রাম ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, চেরি রঙা একটি সাধারণ টিশার্ট আর কালো ট্রাউজার্স পরে একটি রেস্তরাঁয় ঢুকছেন সুনীতা। কেরলের কোঝিকোড়ে ওই রেস্তরাঁ নানা স্বাদের ফালুদার জন্য বিখ্যাত। সকলের সঙ্গে টেবিলে বসা সুনীতার সামনে বড় কাচের গ্লাস ভর্তি ফালুদা এনে হাজির করেন রেস্তরাঁ কর্মী। তা মুখে তুলতেই অপূর্ব এক আমেজে যেন ডুব দিলেন ৬০ বছরের সদ্য অবসর নেওয়া নাসার নভশ্চর। ফল আর সিমুই দিয়ে তৈরি ঠান্ডা ফালুদার স্বাদ যে অপূর্ব, তা সুনীতার প্রতিটি ভঙ্গিমায় ফুটে উঠেছে। এমনকী তিনি বাকিদের দিয়েও এগিয়ে দিচ্ছেন সুমিষ্ট পদটি, হাসতে হাসতে তাঁদের সঙ্গে কথাও বলতেও দেখা গেল সুনীতাকে।
'ফালুদা নেশন' নামে ওই রেস্তরাঁয় সুনীতার আগমনকে রীতিমতো উদযাপন করছেন কর্মীরা। তাঁদের বক্তব্য, ''মহাশূন্য থেকে আমাদের রেস্তরাঁ, তাঁর জাদুতে আমরা মুগ্ধ। আমাদের তৈরি ফালুদা খেয়ে উনি যে এত খুশি হয়েছেন, তাতে নিজেদের ভাগ্যবান বলে মনে হচ্ছে।'' ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনরা নানা মন্তব্য করেছেন। কেউ বলছেন, 'রেস্তরাঁয় ওঁর (সুনীতা উইলিয়ামস) জন্য একটা আসন ফাঁকা রেখে দিন। যদি আবার আসেন।' কারও মন্তব্য, 'উনিই আমাকে আকাশের মতো বড় স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন।' আবার কেউ ভারতীয় বংশোদ্ভুত নভশ্চরকে এভাবে দেখে বেশ অবাক। তাঁদের মন্তব্য, 'এত বড় একজন ব্যক্তিত্ব, অথচ কত সাধারণ! একেবারে মাটির মানুষ। একেই বোধহয় বলে ক্ষমতাশীল ব্যক্তিত্বের অন্তরের ছটা।'
