স্তনে হাত দেওয়া বা পাজামার দড়ি ধরে টানা ধর্ষণের চেষ্টা নয়, রায় দিয়েছিল এলাহাবাদ হাই কোর্ট। আগেই এই 'বিতর্কিত' রায়ে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। এবার শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ হাই কোর্টের রায় খারিজ করে জানিয়ে দিল, স্তনে হাত দেওয়া বা পাজামার দড়ি ধরে টানাকে ধর্ষণের চেষ্টা হিসাবেই ধরা হবে।
গত বছরের মার্চে এই মামলার পর্যবেক্ষণে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বিআর গবই এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহের বেঞ্চ জানিয়েছিল, হাই কোর্টের রায় অত্যন্ত ‘অসংবেদনশীল ও অমানবিক’। এদিন কার্যত হাই কোর্টের রায়ের সমালোচনা করে শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ জানাল, দেশের বিচারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের যৌন অপরাধের মামলার বিষয়ে আরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত। এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছেন তাঁরা।
প্রসঙ্গত, এলাহাবাদ হাই কোর্টের বিচারপতি রাম মনোহর নারায়ণ মিশ্রার বেঞ্চ এক পর্যবেক্ষণে জানায়, স্তন খামচে ধরা এবং পাজামার ফিতে খুলে ফেলা ধর্ষণ কিংবা ধর্ষণের চেষ্টা নয়, শারীরিক নিগ্রহ। গত বছর মার্চে এই রায়ের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পদক্ষেপ নেয় শীর্ষ আদালত। প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি গবই-এর বেঞ্চ জানায়, “হাই কোর্টের এই রায়ে আমরা অত্যন্ত ব্যথিত। এই ধরনের রায়ে সংবেদনশীলতার অভাব রয়েছে। এই রায় তাৎক্ষণিকভাবে নেওয়া হয়নি। সমস্ত দিক বিবেচনা করে আমরা আপাতত এই রায়ের উপর স্থগিতাদেশ দিচ্ছি।”
একইসঙ্গে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি গবই জানান, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। এই মামলায় বিচারপতি সম্পূর্ণ অসংবেদনশীলতার কাজ করেছে। বিচারপতি সম্পর্কে এমন কঠোর শব্দ ব্যবহারের জন্য আমরা দুঃখিত।” শীর্ষ আদালতের এই পর্যবেক্ষণকে সমর্থন জানিয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, “কিছু রায়ের উপর স্থগিতাদেশ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।” বছর ঘুরে বুধবার এলাহাবাদ হাই কোর্টের রায় খালিজ করল সুপ্রিম কোর্ট।
