দেশের ৫ বিধানসভা নির্বাচনে তুলনামূলক কম আলোচনায় ছিল পুদুচেরি। কেন্দ্রশাসিত এই অঞ্চলে বিপুল জয়ের পর শুক্রবার পুদুচেরির এনডিএ-র পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে এন রঙ্গস্বামীকে (N Rangaswamy)। অর্থাৎ পঞ্চমবারের জন্য কেন্দ্রশাসিত এই অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন রঙ্গস্বামী। পাশাপাশি তাঁর ডেপুটি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এ নমশিবায়।
দেশের ৪ রাজ্যের পাশাপাশি গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশ হয়েছে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে। ৩০ আসন বিশিষ্ট পুদুচেরি বিধানসভায় ১৮টি আসন পেয়েছে এনডিএ। এর মধ্যে ১২টি আসন এনডিএ সঙ্গী এআইএনআরসি-র। জয় নিশ্চিত হওয়ার পর গতকালই উপরাজ্যপালের কাছে গিয়ে ইস্তফা দিয়েছিলেন রঙ্গস্বামী। এরপর শুক্রবার পঞ্চমবারের জন্য তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করল দল। পাশাপাশি তাঁর ডেপুটি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বিজেপি বিধায়ক এ নমশিবায়কে। তিনি রঙ্গস্বামীর মন্ত্রিসভায় এতদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।
৩০ আসন বিশিষ্ট পুদুচেরি বিধানসভায় ১৮টি আসন পেয়েছে এনডিএ। এর মধ্যে ১২টি আসন এনডিএ সঙ্গী এআইএনআরসি-র।
দক্ষিণের রাজনীতিতে এন রঙ্গস্বামী এক বিরাট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরু কংগ্রেসের হাত ধরে। কংগ্রেস জমানায় ২০০১ ও ২০০৮ সালে পুদুচেরির মুখ্যমন্ত্রী হন তিনি। তবে কংগ্রেসের সঙ্গে মতানৈক্যের জেরে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন। আইনজীবী রঙ্গস্বামী এরপর কংগ্রেসের সঙ্গ ত্যাগ করেন এবং ২০১১ সালে নতুন দল গঠন করেন। যার নাম এআইএনআরসি। এই বছর এআইএডিএমকে-র সঙ্গে জোট বেঁধে নির্বাচনে নামেন এবং ওই বছর বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসেন। তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রীব হন রঙ্গস্বামী। এরপর ২০১৬ সালের জনতা মুখ ফিরিয়েছিল তাঁর থেকে। নির্বাচনে মাত্র ৮টি আসন পায় এআইএনআরসি দল।
এরপর ২০২১ সালে এনডিএ-র সঙ্গে জোট বেঁধে নির্বাচনে ফের মুখ্যমন্ত্রী হন রঙ্গস্বামী। ২০২৬-এর নির্বাচনেও বিশেষ বেগ পেতে হয়নি এআইএনআরসিকে। বিজেপির সঙ্গে জোট বেঁধে ১৬টি আসনে লড়াই করে ১২ আসনে জয়ী হয় তাঁরা। অন্যদিকে ১০ আসনে লড়ে ৪ আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি। ৩ নির্দল বিধায়কও এনডিএকে সমর্থন দেওয়ায় ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছে যায় এনডিএ। পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত হওয়ার পর পঞ্চমবারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রঙ্গস্বামী শীঘ্রই শপথ নেবেন বলে জানা যাচ্ছে।
