দূষণে জেরবার দিল্লির বাতাস এখন অনেকটাই দূষণমুক্ত। কিন্তু এরপরও তা যুদ্ধবিধ্বস্ত তেহরানের তুলনায় 'বিপজ্জনক'। প্রকাশ্যে এল এমনই বিস্ময়কর তথ্য। দেখা যাচ্ছে, তেহরানের একিউআই তথা বাতাসে দূষিত কণার মাত্রা রয়েছে মাত্র ৫০ থেকে ৭০-এর মধ্যে। যা 'ভালো থেকে মাঝারি'র মধ্যে পড়ে। সেখানে দিল্লির একিউআই এখনও দেড়শোর উপরে! যা 'খারাপ থেকে অস্বাস্থ্যকর'-এর মধ্যে ধরা হয়।
কেন এমন অদ্ভুত পরিস্থিতি? প্রসঙ্গত, তেহরানে বসবাস করেন ৯০ লক্ষ মানুষ। লাগাতার সেখানে চলছে বোমাবর্ষণ। আছড়ে পড়ছে ক্ষেপণাস্ত্র। তেল শোধনাগারে ভয়াবহ হামলার ছবি দেখে শিউরে উঠেছে গোটা বিশ্বের মানুষ। আকাশ ঢেকেছে পুরু কালো ধোঁয়ায়। তবুও তার প্রভাব একিউআইয়ে নেই। অথচ দিল্লিতে কেবল পরিবেশের কারণেই দূষণ এখনও ভয় পাওয়ার মতো। আসলে এর নেপথ্যে রয়েছে শহর দু'টির ভৌগোলিক অবস্থানের ফারাক।
তেহরানের একিউআই তথা বাতাসে দূষিত কণার মাত্রা রয়েছে মাত্র ৫০ থেকে ৭০-এর মধ্যে। যা 'ভালো থেকে মাঝারি'র মধ্যে পড়ে। সেখানে দিল্লির একিউআই এখনও দেড়শোর উপরে! যা 'খারাপ থেকে অস্বাস্থ্যকর'-এর মধ্যে ধরা হয়।
নয়াদিল্লি রয়েছে গাঙ্গেয়-ভারত সমতলে। ওই অঞ্চল এমনিতেই বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত অঞ্চলের অন্তর্গত। শহরের চারপাশে ঠাসা কলকারখানা, প্রবল ট্র্যাফিকের জ্বালাও রয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত নির্মাণকাজের ধুলোর দাপটও রয়েছে। তাছাড়া পাঞ্জাব ও হরিয়ানার মরশুমি ফসলের গোড়া পোড়ানোর ধোঁয়া তো আছেই প্রতি বছর দিওয়ালির সময় রাজধানীর আকাশকে ধোঁয়ায় ঢাকতে। আর এর ফলেই বিষাক্ত ধোঁয়াশার মতো বিপদের সামনে পড়তে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। বিপণ্ণ হয়েছে জনস্বাস্থ্য। বাতাসের মন্দ গতি ও ঘনঘন তাপমাত্রার ওঠানামা এই দূষণকে বাড়াতে বড় ভূমিকা নিয়েছে। ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এখানকার বাতাস তাই নিয়মিতই দূষণে জেরবার। আপাতত দিওয়ালির পরবর্তী সময়ের মতো পরিস্থিতি নেই। তবু দূষণের ছোবল থেকে নিষ্কৃতি নেই।
অন্যদিকে তেহরানে দূষণ নামমাত্র! কেবলমাত্র যানবাহনের ধোঁয়াধুলোর বেশি কোনও 'ভিলেন' নেই। কেননা এখানে ফসলের গোড়া পোড়ানো কিংবা শিল্পজাত বর্জ্যের ঝামেলা নেই। তবে মনে করা হয়েছিল, হয়তো যুদ্ধের ধাক্কায় এবার লাফিয়ে বাড়বে দূষণ। কিন্তু দেখা গিয়েছে, তা হয়নি।
