বাংলাদেশে (Bangladesh) অব্যাহত সংখ্যালঘু নিধন। এবার নরসিংদীতে এক হিন্দু যুবককে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠল কয়েকজন দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। গোটা ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে যুবককে খুন করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত মাসেই সংখ্যালঘু যুবক দীপু দাসকে পুড়িয়ে খুন করা হয়। সেই স্মৃতিই যেন আবার ফিরল।
পুলিশ সূত্রে খবর, নিহত যুবকের নাম চঞ্চল চন্দ্র ভৌমিক (২৩)। তিনি কুমিল্লা জেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। কিন্তু কয়েকবছর ধরে কর্মসূত্রে নরসিংদীতে বাস করছিলেন। মসজিদ বাজার এলাকার কাছে একটি গ্যারেজে তিনি কাজ করতেন। জানা যাচ্ছে, অন্যান্য দিনের মতো শুক্রবার রাতেও কাজ শেষ করে গ্যারেজের ভিতর ঘুমাচ্ছিলেন চঞ্চল। স্থানীয় সূত্রে খবর, গভীর রাতে কয়েকজন দুষ্কৃতী গ্যারেজের শাটারে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। এরপরই আততায়ীরা সেখান থেকে চম্পট দেয়। গ্যারেজের ভিতর দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। গ্যারেজের ভিতরেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় চঞ্চলের। ঘটনার মুহূর্তের একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে (যদিও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল)।
গ্যারেজটিতে আগুন লাগার পরই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ এবং দমকল। বেশ কিছুক্ষণ চেষ্টার পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। তারপরই গ্যারেজের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় চঞ্চলের ঝলসানো দেহ। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আততায়ীদের খোঁজে চলছে তল্লাশি।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের সময় থেকেই রণক্ষেত্র বাংলাদেশ। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মহম্মদ ইউনুস দায়িত্ব নিলেও কট্টরপন্থীদের দাপাদাপি আরও বেড়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের সময় থেকেই রণক্ষেত্র বাংলাদেশ। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মহম্মদ ইউনুস দায়িত্ব নিলেও কট্টরপন্থীদের দাপাদাপি আরও বেড়েছে। সম্প্রতি ছাত্রনেতা হাদি খুনের ঘটনায় ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় সে দেশের সংবাদমাধ্যমের দপ্তরগুলিতে। এমনকী অগ্নিসংযোগও করে দেওয়া হয়। কট্টরপন্থীদের হাত থেকে রেহাই পায়নি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছায়ানটও। সেখানেও রাতভর চলে তাণ্ডব। এরপরই সংখ্যালঘু হিন্দু যুবক দীপু দাসকে গণপিটুনির পর তাঁর দেহ গাছে ঝুলিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনায় কেঁপে ওঠে গোটা বিশ্ব। তারপর থেকেই দেশের নানা প্রান্ত থেকে এসেছে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার খবর। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে ফের খুন হলেন এক সংখ্যালঘু যুবক।
