ইন্টারনেট, স্মার্টফোনের যুগ। কলকাতা থেকে ক্যালিফোর্নিয়া, নাসিক থেকে নিকারাগুয়া... সবটাই আজ হাতের মুঠোয়। সেই যুগে মধ্যপ্রদেশে এক অসুস্থ বৃদ্ধার অ্যাম্বুল্যান্স জুটল না। স্ত্রীকে ঠেলায় চাপিয়ে বৃদ্ধ স্বামী ছুটলেন হাসপাতালে। কিন্তু মাঝপথেই প্রাণ গেল বৃদ্ধার। মর্মান্তিক এই ঘটনা সামনে আসতেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। আঙুল উঠছে প্রশাসনের দিকে।
ঘটনাটি শনিবারের। মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলার বাসিন্দা সবজি ব্যবসায়ী বৃদ্ধের নাম পবন সাহু। এদিন সকালে হঠাৎ অসুস্থ স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। অক্ষরজ্ঞানহীন পবনের জানা ছিল না কীভাবে অ্যাম্বুল্যান্স ডাকতে হয়। এই সংক্রান্ত ফোন নম্বরও তাঁর কাছে ছিল না। বাধ্য হয়ে অ্যাম্বুলেন্স ডাকার জন্য প্রতিবেশীদের কাছে অনুরোধ করেন তিনি। অভিযোগ, হাজার মিনতি সত্বেও মন গলেনি তাঁদের। কেউ সাহায্য করেনি পবনকে। হতদরিদ্র মানুষটির কাছে প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করার মতো অর্থ ছিল না। বাধ্য হয়ে নিজের সবজি বেচার ঠেলাভ্যানে চাপান অসুস্থ স্ত্রীকে। ছোটেন হাসপাতালের দিকে।
কিন্তু মাঝপথে মৃত্যু হয় পবনের স্ত্রীর। যা বোঝার পরে রাস্তার ধারে কান্নায় ভেঙে পড়েন পবন। বিষয়টি চোখে পড়ে পথচলতি অসংখ্য মানুষের। ওই দৃশ্য দেখে তাঁরাও চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। এর পরেও বাকি ছিল নাটকীয়তার। যা মানুষটার মৃত্যু হল অ্য়াম্বুল্যান্সের অভাবে, সময় মতো হাসপাতালে না পৌঁছাতে পারায়, তার জন্য একটি সেবা সমিতি শবদেহবাহী গাড়ি নিয়ে হাজির হল! সেই গাড়িতেই শ্মশানে পৌঁছায় বৃদ্ধার দেহ।
দেরিতে কিন্তু প্রশাসনের কানে পৌঁছায় মর্মান্তির ঘটনার কথা। সাগরের সিএমএইচও মমতা তিমোরি জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। কেন বৃদ্ধ দম্পতি অ্য়াম্বুল্যান্স পেলেন না তা তদন্ত করে দেখা হবে। প্রশাসন প্রয়োজনে পরিবারটিকে সাহায্য করবে।
