প্রথম হাত-পা বাঁধেন স্ত্রীর। এরপর তাঁর চুল কেটে মুখে কালি লেপে দেন। বেপরোয়া মারধরের পর জোর করে প্রস্রাব খাওয়ান। ছত্তিশগড়ে ছেলেমেয়েদের সমানেই স্ত্রীর উপর নারকীয় অত্যাচার চালানোর অভিযোগ এক যুবকের বিরুদ্ধে। স্বামীর নামে থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন তরুণী। ভয়ংকর নির্যাতনের ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। যা দেখে আঁতকে উঠছে নেটিজেনরা।
প্রেমের সম্পর্কের পর ১৫ বছরের আগে জিতেন্দ্র ঘাসিয়েকে বিয়ে করেন তারা। তাঁদের চার সন্তান রয়েছে। যদিও একটা সময়ের পর থেকেই দাম্পত্যকলহ লেগে থাকত। পাশাপাশি আর্থিক অসচ্ছলতা উভয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়ায়। এরপর ছেলেমেয়েদের সঙ্গে নিয়ে আলাদা থাকতে শুরু করেন তারা। গৃহ পরিচারিকার কাজ করে কোনওরকমে সংসার চালাচ্ছিলেন তিনি। খারাপ সময়ে পাশে দাঁড়ানো এক ব্যক্তির বাড়িতে থাকছিলেন তিনি। তরুণী জানান, গত ১৪ জুন সেখানে হাজির হন জিতেন্দ্র। পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগ এনে তাঁকে বাড়ির বাইরে ডেকে অকথ্য অত্যাচার চালান।
পুলিশকে তরুণী বলেন, "প্রথমে আমার হাত-পা দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলে জিতেন্দ্র। এরপর চুল কেটে মাথা কামিয়ে দেয়। মুখে কালি ও ইঞ্জিনের তেল মাখায় সে। মারধরের পর জোর করে প্রস্রাব খাওয়ায়।" তারা অভিযোগ করেন, এক সন্তানকে দিয়েও মার খাওয়ান স্বামী। জিতেন্দ্রর হুমকিতে ওই সন্তান মার মুখে প্রস্রাব ঢেলে দেয়।
ভাইরাল ভিডিও দেখা গিয়েছে, যুবক বারবার অভিযোগ করছেন, স্বামী থাকতেও অন্য পুরুষের সঙ্গে ঘর ছেড়েছেন তারা। যদিও পুলিশকে তরুণী জানিয়েছেন, প্রথম থেকেই স্বামীর সন্দেহবাতিক। পণের জন্যও তাঁর উপর অত্যাচার চালাতেন। চার সন্তান জন্মানোর পর নিজে উদ্যোগী হয়ে বন্ধ্যাকরণ করান। তিনি বলেন, "আমি বিচার চাই। ওঁর চরম শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।" অভিযুক্ত জিতেন্দ্র ঘাসিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
