Advertisement

বলির পাঁঠা করা হচ্ছে! যোগীর রাজ্যে গণইস্তফা ১৪ জন চিকিৎসকের

04:22 PM May 13, 2021 |
Advertisement
Advertisement

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কোভিডের (Covid-19) দ্বিতীয় ঢেউয়ে পুরোপুরি বিপর্যস্ত গোটা দেশ। অক্সিজেন, বেড, ওষুধের আকাল। চারিদিকে জ্বলছে গণচিতা। উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh), বিহারের (Bihar) পরিস্থিতি আরও খারাপ। সৎকার না করেই নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছে দেহ। যারপর প্রশ্নের মুখে পড়ে গিয়েছে যোগী প্রশাসন। আর এই পরিস্থিতিতে এবার দেখা দিল আরও বড়সড় বিতর্ক। বর্তমান কোভিড পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদেরই “বলির পাঁঠা” বানানো হচ্ছে। খালি বৈঠক ডাকা হচ্ছে। এমনকী জেলায় করোনার বাড়বাড়ন্তের জন্যও চিকিৎসকদেরই কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে। আর এই অভিযোগে একযোগে ১৪ জন চিকিৎসক ইস্তফা দিলেন। আর এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো হুলস্থূল পড়ে গিয়েছে গোটা দেশে।

Advertisement

জানা গিয়েছে, ঘটনাটি রাজধানী লখনউ থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে উত্তরপ্রদেশে উন্নাওয়ের। ওই এলাকারই কমিউনিটি হেলথ সেন্টার এবং প্রাথমিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা ১৪ জন চিকিৎসক পদত্যাগ একযোগে পদত্যাগ করেছেন। ১৪ জন চিকিৎসকের মধ্যে ১১ জন বুধবার সন্ধ্যায় উন্নাওর চিফ মেডিক্যাল অফিসারের অফিসে গিয়ে তাঁর ডেপুটিকে এই পদত্যাগপত্র জমা দেন। চিকিৎসকদের বক্তব্য, মহামারীতে কঠোর পরিশ্রম করার পরেও তাঁদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁদের বিরুদ্ধে কাজ না করার অভিযোগ এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার জন্য দায়ী করে ”বলির পাঁঠা” বানানো হচ্ছে। আর তাই তাঁদের এহেন পদক্ষেপ।

[আরও পড়ুন: জোগানে টান? কোভিশিল্ডের দু’টি ডোজের মাঝে ব্যবধান বাড়ানোর সুপারিশ কেন্দ্রীয় কমিটির]

এই প্রসঙ্গে পদত্যাগ করা চিকিৎসকদের মধ্যে একজন ডাঃ শারদ বৈশ্য বলেন, “আমরা ২৪ ঘন্টা ধরেই কাজ করছি। কিন্তু তাও আমাদের ‘কাজ না করার’ জন্য চিহ্নিত করা হচ্ছে। জেলাশাসক, অন্যান্য কর্মকর্তা, এসডিএম এবং তহশিলদার সকলেই আমাদের কাজের তদারকি করছেন, মিটিং করছেন। আমাদের প্রতিনিধিদল দুপুরে বের হন, কোভিড পজিটিভ রোগীদের খোঁজখবর রাখেন, নমুনা তৈরি করেন, ওষুধ বিতরণ করেন। তারপর ফিরে আসার পর আমাদের এসডিএমের কাছে পর্যালোচনা সভায় আসতে অনুরোধ করা হয়। ৩০ কিলোমিটার দূরে কেউ থাকলে এই রিভিউ মিটিংয়ের জন্য তাঁকে আবার ৩০ কিলোমিটার ফেরত আসতে হয়। আমাদের প্রমাণ করতে হবে যে আমরা কাজ করেছি। মনে হচ্ছে যেন, আমরা কাজ করছি না বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।” উন্নাওয়ের জেলাশাসক রবীন্দ্র কুমার একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে চিকিৎসকদের এভাবে পদত্যাগের প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলছি। মুখ্যমন্ত্রীর অফিস থেকে তাঁদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। সমস্যার সমাধান অবশ্যই করা হবে।”

[আরও পড়ুন: আগামী দু’মাসেই দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে, আশাবাদী স্বাস্থ্যমন্ত্রক]

Advertisement
Next