প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে বদলাচ্ছে অনেক কিছুই। ঠিক যেমন আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স। শিক্ষা থেকে চিকিৎসা, সব ক্ষেত্রে সুবিধার জন্যই এআই ব্যবহার করা হচ্ছে, কিন্তু সব আধুনিক প্রযুক্তিরই বোধ হয় একটা কালো দিক আছে! মৃত্যু নিশ্চিত করতেও যে কেউ এআই-এর শরণ নেবে, তা বোধহয় ভাবেননি উদ্ভাবকরা। গত শুক্রবার গুজরাটের (Gujarat) সুরাতের একটি মন্দিরের শৌচাগার থেকে দুই তরুণীর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দেহের পাশ থেকে উদ্ধার হয় বেশ কয়েকটি ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জ। কয়েকটি বোতলও। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দুই তরুণী নিজেদের শরীরে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে বিষ প্রবেশ করিয়ে ‘আত্মঘাতী’ হয়েছেন। কিন্তু তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে উঠে আসছে। তদন্তকারীরা মৃত দুই মহিলার ফোন ঘেঁটে জানতে পারেন মৃত্যুর আগে তাঁরা অনলাইনে সার্চ করেছিলেন ‘কীভাবে আত্মহত্যা করা যায়’। এমনকী আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সাহায্যও নিয়েছিলেন। যা রীতিমতো উদ্বেগের বলছেন পুলিশ আধিকারিকরা।
মৃত দুই তরুণী কলেজ পড়ুয়া। একজনের নাম রশনীশরদ শিরসথ (১৮) এবং জ্যোৎস্না অতুল চৌধুরী। তাঁরা দু'জনের ছোটবেলার বন্ধু। পুলিশ সূত্রে খবর, গত শুক্রবার সকালে তাঁরা কলেজে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। কিন্তু আর বাড়ি ফেরেননি। এরপরেই বাড়ির সদস্যরা খোঁজখবর শুরু করেন। কিন্তু দুজনের কারোর ফোনে পাওয়া যায়নি। এমনকী মোবাইলে ফোন করলেও তাঁদের ফোনে পাওয়া যায়নি। প্রথমে ফোন বেজে গেলেও পরে তা সুইচ অফ বলতে থাকে। পুলিশে নিখোঁজের অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা।
অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। দুই যুবতীর ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করা শুরু করে স্থানীয় পুলিশ। দেখা যায় শেষবার তাঁদের ফোন অন ছিল স্বামীনারায়ণ মন্দির চত্বরে! এরপরেই সেখানে পৌঁছে যান পুলিশ এবং পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা দেখেন, মন্দিরের বাইরে পড়ে রয়েছে জ্যোৎস্নার স্কুটি। এরপরেই মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। ফুটেজে দেখা যায়, ওই দুই তরুণীকে একসঙ্গে মন্দিরের একটি বাথরুমে ঢুকছেন। কিন্তু অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও আর বের হচ্ছেন না। তাতেই সন্দেহ তৈরি হয় পুলিশ আধিকারিকদের। এরপরেই ওই শৌচাগারে তল্লাশি চালিয়ে দুই তরুণীর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
গুজরাট পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কেন এই ঘটনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই আধিকারিকের কথায়, দুই তরুণীর মোবাইল পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে যে তাঁরা মৃত্যুর আগে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেছেন। যেখানে ‘কীভাবে আত্মহত্যা করা যায়’ সেই সংক্রান্ত একাধিক বিষয় সার্চ করেছেন তাঁরা। যা খুবই উদ্বেগের বলে দাবি পুলিশের।
