ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার হয়ে লড়াই করছে বহু ভারতীয় যুবক। গত বছর বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে বিবৃতি দিয়েছিল বিদেশমন্ত্রক। ইতিমধ্যে রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে প্রাণ হারিয়েছেন একাধিক ভারতীয়। এবার যুদ্ধের বলি হলেন উত্তরপ্রদেশের রামপুরের মাওয়াসি গ্রামের ২২ বছরের যুবক মহম্মদ শাভেদ। শনিবার তাঁর কফিনবন্দী দেহ পৌঁছাল রামপুরের গ্রামের বাড়িতে। এর পর শোকের ছায়া নামে এলাকায়।
মহম্মদ শাভেদের ভাই শাহভেজ আলি বলেন, দুই দেশের সরকারি প্রক্রিয়া শেষে আত্মীয়র দেহ পেতে অপেক্ষা করছিল পরিবার। তিনি দাবি করেন, কবে এবং কীভাবে শাভেদ রুশ সেনায় যোগ দিয়েছিলেন, এই বিষয়ে তাঁদের কোনও ধারণা নেই। এদিকে এলাকায় উত্তজনার আশঙ্কায় পুলিশ মোতায়েন করেছিল স্থানীয় প্রশাসন। রামপুরের এসপি সৌমেন্দ্র মিনা বলেন, ভালো ভাবে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। গ্রামের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এর পরেও আমরা নজরে রাখছি পরিস্থিতি।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কোনও ভাবে নয় মাস আগে কাজের খোঁজে রাশিয়া যান মহম্মদ শাভেদ। প্রাথমিক ভাবে পরিবারকে জানান, একটি স্টিলের আসবাবের কারখানায় কাজ করছেন। মাস কয়েক বাদে রুশ সেনায় যোগ দেন যুবক। যদিও পরিবারের সদস্যরা ধোঁয়াশায়--- কখন এবং কীভাবে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন যুবক। ভাই শাহভেজ আলি জানান, বৃহস্পতিবার সেনায় কর্মরত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হন শাভেদ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কোনও ভাবে নয় মাস আগে কাজের খোঁজে রাশিয়া যান মহম্মদ শাভেদ।
পরিবারের লোকেদের অভিযোগ, শাভেদকে রুশ সেনা যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া যুবকের একটি অডিও ক্লিপের প্রমাণ দিয়ে এই দাবি করেন তাঁরা। ওই অডিও ক্লিপে শোনা গিয়েছে যুবক বলছেন, তাঁর জীবন 'ছাড়খাড়' হয়ে গিয়েছে। ভীষণ খারাপ পরিস্থিতিতে বাঁচতে হচ্ছে তাঁকে। যুবককে আরও বলতে শোনা গিয়েছে, অন্যরকম কাজের জন্য এসেছিলাম, সেনায় যোগ দেবো ভাবিনি।
বলা বাহুল্য, এই ঘটনায় নতুন করে অস্বস্তিতে পড়ল কেন্দ্রীয় সরকার। উল্লেখ্য, ঠিক এক বছর আগে এক বিবৃতিতে ভারত সরকার জানিয়েছিল, ”আমরা রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছি। এই মুহূর্তে রাশিয়ায় অবরুদ্ধ এবং বাধ্যত যুদ্ধে অংশ নেওয়া সমস্ত ভারতীয়কে অবিলম্বে মুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।” জানা যাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত রাশিয়ায় যুদ্ধ করতে যাওয়া ১২৬ জন ভারতীয়র মধ্যে ৯৬ জনই দেশে ফিরে এসেছেন। বাকি ৩০ জনের মধ্যে ১২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। রুশ কর্তৃপক্ষ অবশিষ্ট ১৬ জনকে ‘নিখোঁজ’ বলে ঘোষণা করেছে। মহম্মদ শাভেদের মৃত্যুতে সংখ্যতত্ত্বে পরিবর্তন হল।
