উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে জঙ্গি হামলার ছক! যদিও তা বাস্তবায়নের আগেই স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের হাতে গ্রেপ্তার ৪ জঙ্গি। সন্দেহভাজন এই জঙ্গির দু'জনের বাড়ি মিরাট ও বাকি দু'জন নয়ডার বাসিন্দা। তদন্তকারীদের দাবি, এই ৪ জনের পাকিস্তানের সঙ্গে যোগ রয়েছে। সেখান থেকে আসা নির্দেশ মেনেই লখনউয়ের চারবাগে বিস্ফোরণের ছক কষছিল এরা।
পুলিশের তরফে জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ৪ জন সাকিব ওরফে ডেভিড (২৫), আরবাব (২০), বিকাশ গেহলওয়াত ওরফে রৌনক (২৭) এবং লোকেশ ওরফে পোপলা পণ্ডিত (১৯)। দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তরা অগ্নিসংযোগ বা বিস্ফোরণ মাধ্যমে লখনউ রেল লাইনের সিগন্যাল ও সম্পত্তি নষ্টের ষড়যন্ত্র করেছিল। এর জন্য লখনউতে জড়ো হয়েছিল অভিযুক্তরা। গোপন সূত্রে খবর পেয়েই তল্লাশি অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সন্দেহভাজনদের কাছ থেকে একটি দাহ্য পদার্থে ভরা ক্যান, ৭টি স্ম্যার্টফোন, ২৪টি প্রম্পপ্লেট ও আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে মূল অভিযুক্ত পেশায় একজন নাপিত।
সন্দেহভাজনদের কাছ থেকে একটি দাহ্য পদার্থে ভরা ক্যান, ৭টি স্ম্যার্টফোন, ২৪টি প্রম্পপ্লেট ও আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
এটিএসের তরফে জানা গিয়েছে, সন্দেহভাজন অভিযুক্তরা সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে পাকিস্তানি হ্যান্ডেলার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত। এই গোটা চক্রের উদ্দেশ্য ছিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ওপর নজরদারির মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য পাকিস্তানে পাঠানো। গ্রেপ্তার হওয়া লোকেশকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, এর আগে একাধিক জায়গায় অগ্নিসংযোগ ঘটিয়েছে সে। এবং সেই ঘটনার ভিডিও করে পাকিস্তানে পাঠিয়েছে। বিনিময়ে কিউআর কোডের মাধ্যমে টাকা এসেছে তার কাছে।
এই দলের মূল পান্ডা ছিল সাকিব। সেই নিজের গ্রামের আরবাবকে দলে যুক্ত করে। এর পর রৌনক ও লোকেশ যোগ দেয় দলে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে, তারা গাজিয়াবাদ, আলিগড়, লখনউয়ের মতো শহরে যানবাহন এবং রেলওয়ে সিগন্যাল বক্সের রেইকি করেছিল। এরপর সেখানকার ভিডিও করে তা পাকিস্তানে পাঠায়। পাকিস্তানের হ্যান্ডলাররা বিভিন্ন নামকরা প্রতিষ্ঠানের গুগল লোকেশন এদের কাছে পাঠাত, যার ভিত্তিতে সেখানকার রেইকি করত অভিযুক্তরা।
