shono
Advertisement
Ajit Pawar

'শরদের ছেলে নই বলেই মুখ্যমন্ত্রী হওয়া হল না', কাকার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়েই চলে গেলেন অজিত

মুখ্যমন্ত্রী করার সুবর্ণ সুযোগ ছিল, তবু ভাইপোকে সারাজীবন ডেপুটি করেই রাখতে চেয়েছিলেন শরদ!
Published By: Subhajit MandalPosted: 03:37 PM Jan 28, 2026Updated: 05:44 PM Jan 28, 2026

অজিত পওয়ার। মহারাষ্ট্রের রাজনীতির অন্যতম বিতর্কিত চরিত্র। যিনি কংগ্রেস, এনসিপি, বিজেপি, শিব সেনা সকলের সঙ্গেই ঘর করেছেন। নিজের কাকার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছেন। বিজেপিকে কথা দিয়ে রাখেননি। পোশাক বদলানোর মতো জোট বদলেছেন। অথচ রাজনৈতিকভাবে বরাবর প্রাসঙ্গিক থেকেছেন। আবার জোটসঙ্গীদের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতাও ধরে রাখতে পেরেছেন। তবে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ, বরাবরের ডেপুটি হয়ে রয়ে গেলেন তিনি। কোনওদিন মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেননি।

Advertisement

তিনি যে মুখ্যমন্ত্রী হতে চান, সে ইচ্ছা কোনওদিন গোপন করেননি। একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছেন, তাঁর লক্ষ্য মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া। সেই লক্ষ্যপুরণেই বারবার জোট বদলেছেন। এমনকী কাকার বিরুদ্ধে গিয়েছেন। কিন্তু বরাবর সেই মহার্ঘ্য কুরসির আশেপাশে থাকলেও রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হওয়া তাঁর হয়ে ওঠেনি। কেউ কেউ অবশ্য বলেন, কাকা শরদের ইচ্ছা থাকলেই অজিত মুখ্যমন্ত্রী হতে পারতেন। অজিত নিজেও মনে করতেন, কাকার বেইমানিতেই তাঁর মহারাষ্ট্রের কুরসিতে বসা হয়নি।

রাজনীতিতে অজিতের 'পাওয়ার'

  • ১৯৮২: সমবায় নির্বাচন থেকে রাজনীতি শুরু। কাকা শরদের সাহায্যে বারামতির চিনি কারখানার সমবায় সদস্য।

  • ১৯৯১- পুণে কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান। ১৬ বছর ওই পদে।

  • ১৯৯১- বারামতি থেকে লোকসভার সাংসদ। সে বছরই কাকা শরদের জন্য আসন ফাঁকা করে পদত্যাগ।

  • ১৯৯১- বারামতিরই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী। পরের সাড়ে তিন দশক ওই আসনে টানা জয়। ২০২৪ সালেও জয়।

  • ১৯৯১- মহারাষ্ট্র মন্ত্রিসভায় প্রথমবার প্রতিমন্ত্রী।

  • ১৯৯৯- প্রথমবার মহারাষ্ট্রের পূর্ণমন্ত্রী। পরবর্তীকালে সেচ, অর্থ, সমবায়, স্বরাষ্ট্র-সহ বেশ কিছু মন্ত্রক বিভিন্ন সময় সামলান।

  • ২০১০-২০২৬: বিভিন্ন সময় ৬ বারে ৮ বছরের বেশি উপমুখ্যমন্ত্রী।

  • ২০১৯- কাকা শরদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ফড়ণবিসের নেতৃত্বে সরকারে। সেবার সাফল্য পাননি। অনুগামীরা ফেরেন কাকার কাছে।

  • ২০২৩: আবারও একই ভাবে বিদ্রোহ। এবারে সাফল্য। দলের অধিকাংশ নেতা শরদকে ছেড়ে তাঁর পাশে। দলের নাম ও প্রতীকও তাঁর কাছে।
  • ২০২৪- এবার বিজেপি সরকারের অধীনে উপমুখ্যমন্ত্রী। আমৃত্যু সেই পদেই।

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে অজিতের উত্থান আটের দশকে কাকার হাত ধরেই। ১৯৮২ সালে সমবায় ব্যাঙ্কের সদস্য হওয়া থেকে রাজনীতিতে হাতেখড়ি। প্রথম মূলধারার রাজনীতিতে নামেন ১৯৯১ সালে। সেবারই জোড়া সাফল্য। প্রথমে বারামতি থেকে লোকসভার সদস্য হন। সে বছরই কাকা শরদের জন্য ওই আসন ফাঁকা করতে হয় তাঁকে। শরদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ার পর বারামতি থেকে সংসদে যান। অজিত আবার বারামতিরই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিধানসভায় যান। তারপর থেকেই বারামতির বিধানসভা কেন্দ্রটি তাঁর পকেট সিট। মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে আগামী ৩ দশক যে তিনি কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেন সেটাও ওই বারামতিকে কেন্দ্র করেই।

অজিত ১৯৯১ থেকেই মহারাষ্ট্রের মন্ত্রিসভায়। প্রথমে প্রতিমন্ত্রী, পরে স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, ১৯৯৯ সালে প্রথম পূর্ণমন্ত্রী। ২০০৪ সালে তাঁর সামনে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ এসেছিল। সেবার মহারাষ্ট্রের ক্ষমতায় আসে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ। কিন্তু কংগ্রেসের চেয়ে বেশি আসন পায় এনসিপি। কংগ্রেস পায় ৬৯ আসন। আর এনসিপি ৭১। সেবার শরদ পাওয়ার চাইলে মুখ্যমন্ত্রিত্বের দাবি জানাতে পারতেন। সেক্ষেত্রে অজিত পওয়ারই ছিলেন প্রথম পছন্দ। কারণ ততদিনে শরদ নিজে মহারাষ্ট্রের রাজনীতি ছেড়ে কেন্দ্রের রাজনীতিতে চলে গিয়েছেন। কিন্তু কোনও এক অজ্ঞাত কারণে কম আসন পাওয়া কংগ্রেসকেই মুখ্যমন্ত্রীর কুরসি ছাড়েন শরদ। অজিত সেই বঞ্চিতই থেকে যান। এর পর আর মহারাষ্ট্রে কোনওসময় একক বৃহত্তম দল হয়ে ওঠেনি এনসিপি। ফলে ৬ বার উপমুখ্যমন্ত্রীর কুরসিতে বসলেও মুখ্যমন্ত্রীর কুরসিতে বসা হয়ে ওঠেনি। অজিতের কাছেও আর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ আসেনি। পরবর্তী ১০-১৫ বছরে অজিত বুঝতেও পারেন, তাঁর কাকাই চান না তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করা হোক।

পরে প্রকাশ্যে সে কথা বলতেও শোনা যায় তাঁকে। আক্ষেপের সুরে বলে দেন, "আমি যদি শরদ পওয়ারের ছেলে হতাম, তাহলে হয়তো মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হতে পারতাম।" আবার শরদকেও বলতে শোনা গিয়েছে, "মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন বরাবর স্বপ্নই থেকে যাবে অজিতের। কোনওদিন কুরসি পাবে না।" সেটা অবশ্য ২০২৩ সালে। অজিত তাঁর সঙ্গ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর। সে যা-ই হোক, কাকার সেই 'অভিশাপ' ফলে গিয়েছে। অজিত মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেননি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement