বিয়ের আগে একজন পুরুষ এবং একজন মহিলা একে অপরের কাছে 'অপরিচিত'। তাই বিয়ের আগে কাউকে শয্যাসঙ্গী হিসাবে বিশ্বাসই করা উচিত নয়। প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের মামলায় এমনই পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)।
শীর্ষ আদালতের বিচারপতি বিভি নাগারত্ন এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়ার বেঞ্চে মামলাটির শুনানি ছিল। অভিযোগকারিণী মহিলার বক্তব্য, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে সহবাস করেছেন অভিযুক্ত। কিন্তু তাঁকে বিয়ে করতে অস্বীকার করেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, অভিযোগকারিণী জানিয়েছেন, অভিযুক্ত আগে থেকেই বিবাহিত। তিনি সে কথা গোপন রেখে তরুণীর সঙ্গে সহবাস করেছেন। এর প্রেক্ষিতে বিচারপতি নাগারত্নের পর্যবেক্ষণ, বিয়ের আগে কোনও রকম শারীরিক সম্পর্কে জড়ানোর ব্যাপারে সচেতন হওয়া উচিত। বিচারপতি বলেন, "হয়তো আমরা প্রাচীনপন্থী। কিন্তু বিয়ের আগে কিন্তু একজন ছেলে এবং একজন মেয়ে একে অপরের কাছে অপরিচিতই। তাদের মধ্যে সম্পর্ক যা-ই হোক না কেন, আমরা বুঝি না, বিয়ের আগে কীভাবে তারা শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে পারে?" বিচারপতির মত, বিয়ের আগে কাউকেই এভাবে বিশ্বাস করা উচিত নয়।
২০২২ সালে একটি ম্যাট্রিমনি সাইট মারফত অভিযোগকারিণী এবং অভিযুক্তের পরিচয় হয়। তার পর সেখান থেকেই পর্যায়ক্রমে প্রেম-ভালোবাসা! অভিযোগকারিণীর বক্তব্য, অভিযুক্তের কথায় তিনি দুবাইও গিয়েছিলেন। সেখানেও তাঁরা শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন। অভিযোগ, অভিযুক্ত যুবক মহিলার অনুমতি ছাড়াই তাঁদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেছেন। সেই সব ছবি-ভিডিও এখন ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। অভিযোগকারিণীর দাবি, তিনি জানতে পেরেছেন, অভিযুক্ত ২০২৪ সালে পাঞ্জাবে এক মহিলাকে বিয়েও করেছেন।
অভিযোগকারিণীর বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি নাগারত্ন প্রশ্ন করেন, কেন তিনি বিয়ের আগেই দুবাই গিয়েছিলেন? বেঞ্চ বলেন, "উনি যদি এতটাই কড়া হবেন, উনি বিয়ের আগে দুবাই গেলেন কেন? ওঁরা যাতে নিজেদের মধ্যে বিষয়টি মিটিয়ে নিতে পারেন, আমরা সেই চেষ্টা করছি। সম্মতির ভিত্তিতেই এই সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এই ধরনের মামলার শুনানি এভাবে চলতে পারে না।" মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী বুধবার।
