shono
Advertisement
West Bengal SIR

'টার্গেট' পূরণে মরিয়া নির্বাচন কমিশন! হু হু করে SIR নোটিস যাচ্ছে সংখ্যালঘু এলাকায়

উত্তর দিনাজপুর-মালদহ-মুর্শিদাবাদে SIR নোটিসের সংখ্যাটা চমকে দেওয়ার মতো। প্রশ্ন উঠছে, নামের আকার, ই-কারের ভুল কি শুধু সংখ্যালঘুদের হচ্ছে? নাহলে সংখ্যালঘু এলাকায় এত বেশি মানুষকে নোটিস দেওয়া হচ্ছে কেন?
Published By: Subhajit MandalPosted: 02:40 PM Jan 15, 2026Updated: 05:07 PM Jan 15, 2026

SIR প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই তৃণমূল অভিযোগ করছে, নির্বাচন কমিশন কাজ করছে বিজেপির ইশারায়। রাজ্যে দেড় কোটি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার টার্গেট বেঁধে দিয়েছে বিজেপি। আর সেই টার্গেট পূরণের লক্ষ্যেই কাজ করছেন জ্ঞানেশ কুমাররা। এমনকী বিজেপির দেওয়া টার্গেট পূরণ করতেই 'লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি'র নামে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তৃণমূল নেতারা বলছেন, এবারে টার্গেট করা হচ্ছে সংখ্যালঘুদের। সেই অভিযোগ যে বিশেষ অমূলক নয়, তার প্রমাণ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশনের নিজের তথ্যই। কমিশনের তথ্য বলছে, SIR-এর দ্বিতীয় পর্বে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির অভিযোগে বেশি নোটিস পাচ্ছেন সংখ্যালঘুরাই।

Advertisement

SIR-এ বাংলায় বাদ যাবে কোটির বেশি মানুষের নাম। কারণ রাজ্য নাকি ‘অনুপ্রবেশকারী’তে ছেয়ে গিয়েছে। ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শুরুর আগে এমনটাই দাবি করেছিল বিজেপি। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বাংলায় বাংলার খসড়া তালিকায় বাদ গিয়েছে মাত্র ৫৮ লক্ষ মানুষের নাম। সেটার মধ্যেও একটা বড় অংশ মৃত ভোটার। স্পষ্টতই বিজেপি নেতারা যে কোটি কোটি ভোটার বাদের দাবি করছিলেন, সেই দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এসআইআর তথ্য। এর মধ্যে বার কয়েক শমীক ভট্টাচার্য, দিলীপ ঘোষদের মতো নেতারা সরাসরি কমিশনকে কাঠড়াতেও তুলেছেন। তারপরই চমকপ্রদভাবে দেখা যাচ্ছে সংখ্যালঘু এলাকায় হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে SIR নোটিসের সংখ্যাটা।

খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা গিয়েছিল মূলত মতুয়া অধ্যুষিত এলাকা, এবং কলকাতা সংলগ্ন এলাকায় হিন্দিভাষীদের নাম বেশি বাদ গিয়েছে। তারপরই কমিশন নোটিস পাঠানো শুরু করেছে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে। আর তাতে চমকপ্রদভাবে বেশি নোটিস যাচ্ছে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদের ৩০ শতাংশ ভোটার লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নোটিস পেয়েছেন, মালদহে সংখ্যাটা ২৯.৭৫ শতাংশ। উত্তর দিনাজপুরের ক্ষেত্রে ২৮.৪২ শতাংশ। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলিতেই রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শুনানির নোটিস গিয়েছে। তুলনায় কম মুসলিম জনসংখ্যার জেলায় SIR নোটিসের সংখ্যাও অনেকটা কম। উদাহরণ বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার মতো জেলায় শুনানিতে তলব পেয়েছেন মাত্র ১০-১৩ শতাংশ ভোটার।

মুর্শিদাবাদের ৩০ শতাংশ ভোটার লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নোটিস পেয়েছেন, মালদহে সংখ্যাটা ২৯.৭৫ শতাংশ। উত্তর দিনাজপুরের ক্ষেত্রে ২৮.৪২ শতাংশ।

প্রশ্ন উঠছে, নামের আকার, ই-কারের ভুল কি শুধু সংখ্যালঘুদের হচ্ছে? নাহলে সংখ্যালঘু এলাকায় এত বেশি মানুষকে নোটিস দেওয়া হচ্ছে কেন? কমিশনের একটা সাফাই অবশ্য আছে। তারা বলছে, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির বিষয়টা একটি সফটওয়ার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সেটা অবশ্য নির্ভুল নয়। বঙ্গে এসআইআরের স্পেশ্যাল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত এই ধর্মের ভিত্তিতে তলবের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি মেনে নিয়েছেন, যে পদ্ধতিতে তলব করা হচ্ছে তাতে ১৫-২০ শতাংশ ভুল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement