ঠিক যেন সিনেমা। এলোপাথাড়ি ছুরির কোপ মেরে স্বামীকে খুন। তারপর পেট কেটে নাঁড়িভুঁড়ি বের করে নিলেন স্ত্রী! নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে হরিয়ানার (Haryana) কুরুক্ষেত্রে। জানা গিয়েছে, স্বামীকে খুন করার পর নাড়িভুঁড়ি বের করার সময়েই দেখে ফেলেন বাড়িওলা। পালানোর চেষ্টায় ছাদ থেকেই ঝাঁপ দেন 'খুনি' স্ত্রী। গোটা ঘটনায় চাঞ্চল্য পড়ে গিয়েছে এলাকাজুড়ে।
জানা গিয়েছে, মৃতের নাম রাজেশ। কুরুক্ষেত্রে একটি বাড়ি ভাড়া করে স্ত্রী বিমলা দেবীকে নিয়ে থাকতেন তিনি। প্রায় একবছর ওই বাড়ির বাসিন্দা ছিলেন তাঁরা। তবে বাড়িওলা রিঙ্কু জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ লেগেই থাকত। সমস্যার মূল কারণ বিমলার মানসিকতা। ঝাড়ফুঁক ইত্যাদিতে বিশ্বাসী ছিলেন বিমলা, নিয়মিত সেসবের চর্চাও করতেন। সেই নিয়ে মাঝেমাঝেই চলত বচসা।
রিঙ্কু জানিয়েছেন, খুনের দিন বিকেল পাঁচটা নাগাদ আবারও বিমলা এবং রাজেশের মধ্যে ঝগড়ার আওয়াজ পান তিনি। সন্দেহ হয়, ছাদে গিয়ে ঘটনাটি দেখতে যান। রাজেশের ঘরের দিকে তাকিয়ে তাঁর রক্ত জল হয়ে যাওয়ার জোগাড়। দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন রাজেশ। তাঁর পেট কাটা। পেটের নাড়িভুঁড়ি বের করে একটি ব্যাগে ভরছেন বিমলা। এহেন দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন রিঙ্কুও। এমন সময়ে তাঁকে দেখতে পেয়েই বিমলা পালানোর চেষ্টা করেন। সটান ঝাঁপ দেন ছাদ থেকে। তবে আহত অবস্থায় বিমলাকে আটক করা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে তাঁর।
রাজেশের ময়নাতদন্ত রিপোর্টে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে। ৩৫ সেন্টিমিটার কাটা হয়ছিল পেট। তার জেরেই বেরিয়ে আসে পেটের নাড়িভুঁড়ি। শুধু তাই নয়, রাজেশের লিভার এবং কিডনির কিছু অংশও দেহ থেকে বের করে নেওয়া হয়েছে। উধাও হয়ে যাওয়া অঙ্গ কোথায় গেল, সেই নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে নানা মাপের তিনটি ধারালো ছুরিও। আপাতত বিমলার বয়ান রেকর্ড করার চেষ্টা করছে পুলিশ। ফরেন্সিক রিপোর্ট পেলে চলবে তদন্ত। কিন্তু স্বামীকে কেন খুন করল বিমলা, এখনও জানা নেই।
