সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সংসদীয় নির্বাচন চায় না জামাত। তাই নির্বাচন ভণ্ডুল করতেই বাংলাদেশে হিংসাত্মক আন্দোলন চালাচ্ছে কট্টরপন্থী ওই গোষ্ঠী। বিশ্লেষকদের একাংশের এই মতেই সিলমোহর পড়তে চলেছে? সোমবার জামাত গোষ্ঠী জানিয়েছে, "দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নেই"। দলের শীর্ষনেতা (আমির) শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সোজা ভাষায় নির্বাচনে পিছতে ইউনুস সরকার এবং সে দেশের নির্বাচন কমিশনের উপর চাপ সৃষ্ট করল জামাত শিবির।
সোমবার একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে জামাত। সেখানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পাশাপাশি 'দলদাস' সরকারি কর্মকর্তা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ইত্যাদি বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিস্তারিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ এখনও সৃষ্টি হয়নি। প্রশাসনের মধ্যে কিছু কিছু সরকারি কর্মকর্তা একটি বিশেষ দলের পক্ষে কাজ করছে বলে বিভিন্ন স্থান থেকে অভিযোগ আসছে। এ অবস্থায় অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রশাসনের নিরপেক্ষতা শতভাগ নিশ্চিত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতির বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন ও সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।’’
শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ায় এবং আওয়ামি লিগ নিষিদ্ধ হওয়ায় বাংলাদেশে এখন স্পষ্টত দু'পক্ষ। একদিকে বিএনপি। বিপরীত পক্ষ কট্টরপন্থী জামাত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের রাজনৈতিক দল এনসিপি এবং আরও কয়েকটি ইসলামপন্থী গোষ্ঠী। ‘মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি’ হিসাবে চিহ্নিত জামাতের সঙ্গে মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের ঘনিষ্ঠতা সকলের জানা। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংস্দ নির্বাচন ঘোষণা করেন সেই ইউনুস। এরপরই কখনও ওসমান হাদির মৃত্যু ঘিরে, কখনও অন্য কারণে ঢাকা-সহ গোটা দেশে হিংসা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে কট্টরপন্থীদের বিরুদ্ধে। সমান্তরালভাবে চলছে সংখ্যালঘু নির্যাতন।
এর মধ্যেই দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর সমর্থনে পথে নামে লক্ষ লক্ষ মানুষ। পরে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিএনপির দিকে আমজনতার সমর্থন আরও বেড়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই অবস্থার আঁচ পেয়েই আগেভাগে প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগ তুলছে জামাত নেতৃত্ব। জামাতের বক্তব্য, ‘‘দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ বিদায় নিয়েছে। দেড় হাজার শহিদ, ত্রিশ হাজারের অধিক আহত ও পঙ্গুত্ববরণের মধ্য দিয়ে অর্জিত আমাদের এই প্রিয় নতুন বাংলাদেশকে কোনও ধরনের চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র বা কোনও গোষ্ঠীর হাতে পণবন্দি হতে দেওয়া যাবে না।’’ আসল কথা, ইউনুস সরকার এবং সে দেশের নির্বাচন কমিশনের উপর চাপ সৃষ্ট করে নির্বাচন পিছনোর কৌশল নিচ্ছে জামাত শিবির।
