গুজরাটের এক ছোট্ট গ্রাম কারবুন। নৃশংস এক হত্যাকাণ্ড ঘিরে সেখানে হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে। প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে খুনের অভিযোগ উঠল এক যুবতীর বিরুদ্ধে। আর এই কাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে যুবতীর বোনেরও। পুলিশ সকলকেই গ্রেপ্তার করেছে।
জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম রাঞ্ছোরজি দরবার। স্ত্রী ধর্মিবার সঙ্গে দাম্পত্যের মাঝেই আচমকা নাকি তিনি জানতে পেরে যান, গ্রামেরই ভানাভাই মাজিরানা নামের এক যুবকের সঙ্গে প্রেম করছে স্ত্রী। আর এরপরই শুরু হয় ঝগড়া। শেষে স্বামীর উপরে প্রতিশোধ নিতেই ধর্মিবা প্রেমিক ভানাভাইয়ের সঙ্গে মিলে খুনের ষড়যন্ত্র করে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
পুলিশ জানাচ্ছে, ঘটনার দিন স্বামীর খাবারে নাকি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেয় স্ত্রী। এরপরই অচেতন হয়ে পড়েন রাঞ্ছোরজি। শেষে ভানাভাই একটি কুঠারের সাহায্যে তাঁকে খুন করে বলেই মনে করা হচ্ছে। আর এই পুরো ঘটনায় তাদের সাহায্য করার অভিযোগ রয়েছে ধর্মিবার বোন আনন্দাবার বিরুদ্ধেও।
পুলিশের দাবি, দেহটি গলিয়ে নষ্ট করে ফেলার পরিকল্পনা করেছিল অভিযুক্তরা। কিন্তু এতে ব্যর্থ হওয়ার পর রাঞ্ছোরজির নিথর দেহটি খাটে শুইয়ে দিয়ে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত সব পরিকল্পনাই ব্যর্থ হয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের শেষে অপরাধটি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে তারা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুন, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে হত্যার এই অভিযোগ মনে করিয়ে দিল মুসকান কাণ্ডের কথা। গত বছরের শুরুতে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে মীরাটের মার্চেন্ট নেভি অফিসার স্বামী সৌরভ রাজপুতের হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। তাঁকে খুন করে ১৫ টুকরো করে ড্রামে লুকিয়ে রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয় স্ত্রী মুসকান রাস্তোগি। একই অপরাধে অভিযুক্ত হয় তার প্রেমিক সাহিল শুক্লাও।
