সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন তিন দিন আগে। এবার স্বঘোষিত খ্রিস্টান ধর্মগুরু বাজিন্দর সিংকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল পাঞ্জাবের মোহালির জেলা আদালত। সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক জনপ্রিয় এই ধর্মগুরু 'যিশু যিশু' মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে ক্যানসারের মতো জটিল রোগ সারানোর দাবি করতেন।
২০১৮ সালে জিরাকপুরের এক মহিলা বাজিন্দরের বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, তাঁকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এই ধর্মগুরু। বিদেশ নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে চণ্ডীগড়ের সেক্টর ৬৩-র বাসভবনে নিয়ে গিয়েছিলেন বাজিন্দর। সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করে এবং সেই ঘটনার ভিডিয়ো রেকর্ড করেন। এমনকি এই ঘটনার কথা কাউকে জানালে ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেন। নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৮ সালের জুলাই মাসে লন্ডন যাওয়ার পথে দিল্লি বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার করা হয় বাজিন্দরকে। যদিও সেই মামলায় পরে জামিন পান অভিযুক্ত। তবে গত ৭ বছর আদালতে সেই মামলা চলার পর গত সপ্তাহে বাজিন্দরকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। অবশেষে মঙ্গলবার সেই ধর্ষণ কাণ্ডে বাজিন্দরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল আদালত।
তবে বিতর্ক শুধু এখানেই নয়, এর আগেও একাধিকবার যৌন হেনস্থা, মারধরের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বাজিন্দরের বিরুদ্ধে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২২ বছরের এক যুবতীকে যৌনহেনস্থার অভিযোগ ওঠে বাজিন্দরের বিরুদ্ধে। তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে সেই মামলার তদন্ত করছে কপুরথলা থানার পুলিশ। পাশাপাশি গত ২৫ মার্চ এক ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়, যেখানে এক মহিলার সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁকে চড় থাপ্পড় মারতে দেখা যাচ্ছে অভিযুক্তকে।
উল্লেখ্য, পাঞ্জাবের জলন্ধর ও মোহালিতে দুটি চার্চ চালান বাজিন্দর। তবে তাঁর জনপ্রিয়তা সোশাল মিডিয়ায় 'যিশু যিশু' মন্ত্রে রোগ সারানোর দাবি করে। সোশাল মিডিয়ায় চলত 'রোগ সারানোর' ঘটনার লাইভ সম্প্রচার। যদিও অভিযোগ, সে সবই ছিল সাজানো ঘটনা। ইউটিউবে তাঁর ৩.১২ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার, ইনস্টাগ্রামে রয়েছে ১.১ মিলিয়ন ফলোয়ার্স।