উত্তরপ্রদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যে সিঙ্গাপুর সফরে গিয়ে বড়সড় চমক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সফরের দ্বিতীয় দিনে লখনউ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে বিনিয়োগের সেতুবন্ধন আরও মজবুত হল। খোদ মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, মাত্র দু’দিনেই সিঙ্গাপুর থেকে প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রস্তাব পেয়েছে তাঁর রাজ্য। এর মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার মৌ ইতিমধ্যেই স্বাক্ষরিত হয়েছে। ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে উত্তরপ্রদেশকে আর্থিক শক্তিকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পথে একে বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন যোগী।
সিঙ্গাপুরে দাঁড়িয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তরপ্রদেশ নিয়ে বিশ্বজুড়ে এখন এক ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতার কারণেই বিদেশের লগ্নিকারীরা এখন লখনউমুখী। গত ন’বছরে পরিকাঠামো ও লজিস্টিকস ক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশ যে দ্রুত উন্নতি করেছে, তার সুফল মিলছে হাতেনাতে। গত দু’দিনে সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী এবং উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়াও ১০০-র বেশি শীর্ষ প্রতিনিধি ও ফিনটেক সংস্থাগুলির কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি।
এ বারের সফরে অন্যতম গুরুত্ব পেয়েছে জেওয়ারে নির্মীয়মাণ নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সিঙ্গাপুরের আদলে জেওয়ারকেও বিশ্বমানের কার্গো ও ‘এমআরও’ (মেন্টেন্যান্স, রিপেয়ার অ্যান্ড ওভারহলিং) হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। বর্তমানে ভারতের বহু বিমান মেরামতির জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠাতে হয়। যোগীর লক্ষ্য, সেই কাজ এবার উত্তরপ্রদেশেই হবে। এ ছাড়াও সিঙ্গাপুরের বিশ্বমানের স্কিলিং সেন্টার বা আইটিই-র মডেল খুঁটিয়ে দেখেন প্রতিনিধিরা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তরপ্রদেশের প্রতিটি জেলায় যে ‘সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল এমপ্লয়মেন্ট জোন’ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তাতে সিঙ্গাপুরের দক্ষতা উন্নয়নের এই মডেল বড় ভূমিকা নেবে।
সিঙ্গাপুরের হাই কমিশনার ও তাঁর প্রতিনিধিদলের প্রশংসা করে যোগী বলেন, “টিম ইউপি একযোগে কাজ করছে। বাণিজ্য, প্রযুক্তি, পর্যটন থেকে সেমিকন্ডাক্টর—প্রতিটি ক্ষেত্রে লগ্নিকারীরা উত্তরপ্রদেশকে বেছে নিচ্ছেন।” রাজ্যের অর্থমন্ত্রী সুরেশ কুমার খান্না এবং শিল্পমন্ত্রী নন্দগোপাল নন্দীও এই প্রতিনিধিদলে ছিলেন। গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মতো মেগা প্রকল্পেও বিদেশি লগ্নি আসার পথ প্রশস্ত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিঙ্গাপুর সফরের এই সাফল্য উত্তরপ্রদেশের শিল্পায়নের মানচিত্র বদলে দিতে পারে।
