সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরায় থাকা জওয়ানদের জন্য বড়সড় অভয়বাণী শোনা গেল উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের গলায়। সোমবার লখনউয়ে আয়োজিত ‘জনতা দর্শন’ কর্মসূচিতে হাজির হওয়া সেনাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট জানান, দেশের সুরক্ষায় জওয়ানরা যেন কোনও চিন্তা ছাড়াই নিজেদের নিয়োজিত করেন। তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা, সম্মান এবং সমস্ত সুযোগ-সুবিধার দায়িত্ব নেবে খোদ রাজ্য সরকার। যোগীর কথায়, “আপনারা দেশের সেবা করুন, আপনাদের পরিবারের দেখাশোনা করবে সরকার।”
এ দিন লখনউয়ের সরকারি বাসভবনে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনতে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই ভিড়ের মধ্যেই উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বেশ কয়েকজন সেনাকর্মী। তাঁদের প্রত্যেকের সমস্যার কথা খুঁটিয়ে শোনেন যোগী। মূলত জমি বিবাদ, বদলি সংক্রান্ত সমস্যা এবং পুলিশের অসহযোগিতার মতো বিষয়গুলি নিয়ে জওয়ানরা মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁদের আবেদনপত্র হাতে নিয়ে যোগী তৎক্ষণাৎ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কড়া নির্দেশ দেন। তিনি জানান, যে সমস্ত জওয়ান সীমান্তে বা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন, জেলা প্রশাসনকে সরাসরি তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান করে সেনাকর্মীদের পরিবারকে আশ্বস্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এ দিনের কর্মসূচিতে জমিজমা সংক্রান্ত বিবাদ ছাড়াও চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের আবেদন নিয়ে অনেকেই এসেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, অর্থাভাবে রাজ্যে কারও চিকিৎসা থমকে থাকবে না। রোগীদের পরিবারকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “আপনারা রোগীর সেবা করুন, চিকিৎসার খরচ নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই। সরকার আপনাদের পাশে আছে।” অসুস্থ ব্যক্তিদের হাসপাতালের খরচের খতিয়ান জমা দিতে বলেন তিনি, যাতে দ্রুত সরকারি সাহায্য পৌঁছে দেওয়া যায়।
প্রশাসনের আধিকারিকদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জওয়ানদের যে কোনও সমস্যার সমাধান হতে হবে স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ ভাবে। বিশেষ করে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা বা জমি দখল সংক্রান্ত বিষয়ে কোনও রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। ২৫ কোটি মানুষের এই রাজ্যে জওয়ানদের পরিবারের মর্যাদা রক্ষা করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ দিনের ‘জনতা দর্শন’ থেকে অন্তত একঝাঁক জওয়ান হাসিমুখে এবং আশ্বস্ত হয়ে ফিরেছেন।
