মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আঁচ এসে পড়েছে ভারতে। এই পরিস্থিতিতে সোমবার সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশেষ বার্তা দিলেন 'বন্ধু' ইরানকে। তিনি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলির উপর হামলা মেনে নেওয়া হবে না। একইসঙ্গে আমেরিকার 'যুদ্ধগর্জন' নিয়েও তিনি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন।
যুদ্ধের আগুনে পুড়ে 'তৈল ধমনী' হরমুজ অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইরান। যার প্রভাব পড়েছে গোটা বিশ্বে। ভারতেও সৃষ্টি হয়েছে গ্যাস সংকট। তেহরান জানিয়ে দিয়েছে, ওই জলপথ দিয়ে কোনও জাহাজ চলাচল করলেই সেটিকে জ্বালিয়ে দেওয়া হবে। তবে এক্ষেত্রে ভারত-সহ কিছু দেশকে 'ছাড়' দেওয়া হয়েছে। এই আবহে মোদির বার্তা, "হরমুজ অবরুদ্ধ করে রাখা কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ নয়। ভারত তা মেনে নেবে না। শুধু তা-ই নয়, হরমুজে জাহাজের উপর হামলাও মেনে নেবে না ভারত।" যতদিন যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ততই খারাপ হচ্ছে। অসামরিক অবকাঠামো, গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ঘাঁটিগুলিতেও লাগাতার হামলার চলছে। কিন্তু ভারত যে এসবের বিরোধিতা করে তা এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
চার সপ্তাহে পড়েছে ইরান যুদ্ধ। কয়েকদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঙ্কার দিয়ে জানান, এই যুদ্ধ আমেরিকা প্রায় জিতেই গিয়েছে। তিনি বলেন, "ওদের নৌসেনা নেই। বায়ুসেনাও নেই। ওদের কাছে অস্ত্রই নেই। দেখুন, আলোচনায় বসা যেতেই পারে। কিন্তু আমি যুদ্ধবিরতি চাই না। যখন আপনি প্রতিপক্ষকে প্রায় কাবু করেই ফেলেছেন তখন কেনই বা তা চাইতে যাবেন! আমার মতে মনে হচ্ছে আমরা জিতেই গিয়েছি।” ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এদিন নাম না করে আমেরিকাকে ঘুরে বার্তাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, "ভারত সর্বদা মানবকল্যাণ এবং শান্তির পক্ষে। যুদ্ধ কোনও সমস্যার সমাধান নয়। সমস্যা সমাধানে আলোচনার টেবিলে বসাই একমাত্র পথ। একমাত্র কূটনীতি। সমস্ত সংঘাত এবং উত্তেজনা প্রশমনে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।" বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকার 'আগ্রাসী' মনোভাবের বিরুদ্ধে মোদির এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
উল্লেখ্য, সোমবার ২৪ দিনে পড়েছে ইরান যুদ্ধে। এই লড়াইয়ে ইরান ছারখার হলেও প্রত্যাঘাতে আমেরিকার ক্ষয়ক্ষতিও কম হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে একাধিক মার্কিন ঘাঁটি ক্ষতবিক্ষত হয়েছে মার্কিন হামলায়। শেষ ২০ দিনের যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত ৩টি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ও ৬টি কেসি ট্যাঙ্কার ধ্বংস হয়েছে। ইজরায়েলের হাইফা তেল সংশোধনাগারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা একাধিক তেল ও গ্যাসের ভাণ্ডার ধ্বংস করেছে ইরান। হরমুজ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ব্যারেল পিছু ১০০ ডলার পেরিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংসদে দাঁড়িয়ে 'বন্ধু' ইরানকে বার্তা দিলেন মোদি।
