গঙ্গা-যমুনার তীরে এবার বইবে জাপানি প্রযুক্তির হাওয়া। সৌজন্যে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। টোকিও থেকে ইয়ামানাশি— জাপানের শিল্পমহলে কার্যত দাপিয়ে বেড়ালেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। ফলও মিলল হাতেনাতে। পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন হাইড্রোজেন’ প্রযুক্তি নিয়ে ইয়ামানাশি প্রিফেকচারের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি সই করল উত্তরপ্রদেশ সরকার। লক্ষ্য একটাই, ২০২৭ সালের মধ্যে উত্তরপ্রদেশকে আধুনিক প্রযুক্তির পীঠস্থান হিসেবে গড়ে তোলা।
বৃহস্পতিবার ইয়ামানাশিতে আয়োজিত ‘ইউপি ইনভেস্টমেন্ট রোড শো’-তে লগ্নিকারীদের সামনে রাজ্যের খোলনলচে বদলে যাওয়ার খতিয়ান পেশ করেন যোগী। তিনি সাফ জানান, উত্তরপ্রদেশ এখন আর সমস্যার পরে ব্যবস্থা নেয় না। বরং সমস্যার আগেই সমাধান খুঁজে বের করে। এই ‘প্রো-অ্যাক্টিভ’ শাসনব্যবস্থাই এখন লগ্নিকারীদের প্রধান আকর্ষণ। একই সঙ্গে স্বস্তির জায়গাও বটে। গত ৯ বছরে রাজ্যের মাথাপিছু আয় যে তিন গুণ বেড়েছে, সে কথা মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি তিনি।
এদিনের চুক্তির নির্যাস হল শিক্ষা ও প্রযুক্তি। উত্তরপ্রদেশের কারিগরি পড়ুয়ারা এবার সরাসরি জাপানে গিয়ে গ্রিন হাইড্রোজেন প্রযুক্তির পাঠ নেবেন। সেই জ্ঞান কাজে লাগানো হবে রাজ্যের শিল্প, গণপরিবহন এবং বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে। প্রধানমন্ত্রীর ‘নেট জিরো’ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পাশাপাশি, রোবোটিক্স প্রযুক্তিতে জোর দিতে রাজ্যে ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’ গড়ার কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
২৫ কোটির বাজার আর অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদের ডালি সাজিয়ে এদিন লগ্নিকারীদের আহ্বান জানান যোগী। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী সুরেশ কুমার খান্না, শিল্পোন্নয়ন মন্ত্রী নন্দ গোপাল গুপ্ত এবং জাপানে ভারতের রাষ্ট্রদূত নগমা মালিক। গত ডিসেম্বরে ইয়ামানাশির গভর্নর কোতারো নাগাসাকি উত্তরপ্রদেশ সফরে এসেছিলেন। সেই বন্ধুত্বের হাত ধরেই এবার জাপানি বিনিয়োগের জোয়ার আসতে চলেছে যোগী-রাজ্যে। সব মিলিয়ে, ইয়ামানাশি আর উত্তরপ্রদেশের এই মেলবন্ধন ভারত-জাপান সম্পর্কে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল।
