বঙ্গ সংস্কৃতির অঙ্গ ছড়া, ছবি, গল্প। ছড়া, ছবি বললে আবার মনে পড়ে যায় আবোল তাবোল বা হাসিখুশি বইয়ের প্রচ্ছদগুলো। এব্যাপারে বাংলা সাহিত্যে রসবোধের বিষয়ে সুকুমার রায় কিংবা যোগীন্দ্রনাথ সরকারের জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু এসব নিয়ে হঠাৎ কেন এত কথা? না, 'ধান ভাঙতে শিবের গীত' গাইছি না মোটেও। সত্যিই যোগ আছে। উত্তর কলকাতার 'আবোল তাবোল পাড়া' তো চেনেন? তো এবার সেই পাড়া বদলে যাচ্ছে 'হাসিখুশি পাড়া'য়। এর মধ্যে আবার অন্য কোনও রং বদলের কোনও সমীকরণ নেই কিন্তু। দুর্গাপুজো উপলক্ষে নবীন রূপে সেজে উঠছে হাতিবাগান নবীন পল্লি (Hatibagan Nabin Pally)। তারই প্রস্তুতি এই রূপের বদল।
হাতিবাগান নবীন পল্লির 'রং' বদল, ছবি: ফেসবুক
এবার ছাব্বিশ। পরিবর্তনের বছর। না, শুধু রাজ্য রাজনীতির পরিবর্তন নয়। নয়া প্রশাসনের হাত ধরে ইতিবাচক সমস্ত বদলের সাক্ষী হচ্ছি আমরা। বিশেষত বাংলার ইতিহাস, সাহিত্য, সংস্কৃতির ঐতিহ্য সংরক্ষণ নিয়ে অত্যন্ত যত্নশীল রাজ্য সরকার। তাতে শামিল উত্তর কলকাতার এই বিখ্যাত পুজো উদ্যোক্তাও।
কোনও বাড়ির দেওয়ালে কুমড়োপটাশ, কোথাও কাতুকুতু বুড়ো, কোথাও আবার পাগলা দাশুর অবিস্মরণীয় সংলাপ লেখা। সুকুমার জমানার মতো সাদা-কালোতেই ম্যাজিক। পাড়া জুড়েই যেন আবোল তাবোল। প্রায় তিনবছর ধরে এভাবেই হাতিবাগান নবীন পল্লিকে দেখেছেন শহরবাসী। এটা আসলে পুজোর সাজ। ২০২৩ সালে এখানে গড়ে উঠেছিল 'আবোল তাবোল' পাড়া। পরের বছর অর্থাৎ ২০২৪-এ সেই সাজ সামান্য বদলে হয়ে ওঠে 'থিয়েটার পাড়া'। ২০২৫ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণে হাতিবাগান নবীন পল্লির থিম ছিল 'আমাদের দেশ আমাদের দুর্গা।'
হাতিবাগান নবীন পল্লির পূর্বতন সাজ, আবোল তাবোল পাড়া, ছবি: ফেসবুক
এবার ছাব্বিশ। পরিবর্তনের বছর। না, শুধু রাজ্য রাজনীতির পরিবর্তন নয়। নয়া প্রশাসনের হাত ধরে ইতিবাচক সমস্ত বদলের সাক্ষী হচ্ছি আমরা। বিশেষত বাংলার ইতিহাস, সাহিত্য, সংস্কৃতির ঐতিহ্য সংরক্ষণ নিয়ে অত্যন্ত যত্নশীল রাজ্য সরকার। তাতে শামিল উত্তর কলকাতার এই বিখ্যাত পুজো উদ্যোক্তাও। হাতিবাগান নবীন পল্লিতে এবার মা দুর্গার সঙ্গে শ্রদ্ধার্ঘ্য দেওয়া হবে বিশিষ্ট ছড়াকার যোগীন্দ্রনাথ সরকারকে। যাঁর ছড়ায় হরেক মজার উপাদান খুঁজে পায় ছোটরা। যাঁর 'হাসিখুশি'তে খিলখিলিয়ে হেসে উঠতে পারে তারাও। আর তাই হাতিবাগান নবীন পল্লি এবার বদলে যাচ্ছে 'হাসিখুশি' পাড়ায়। নতুন রঙের প্রলেপ লেগেছে বাড়িগুলিতে। লাল, নীল, সাদা, হলুদ, সবুজ - নানা রঙের বাড়ি মেতে উঠবে মাতৃবন্দনায়। শুধু রঙে ভরা বাড়ি নয়, 'হাসিখুশি'র দু-এক লাইনের ছড়াও লেখা থাকবে এখানে। থাকবে অভিনয়ের অংশও।
রংবেরঙের বাড়ি হাতিবাগান নবীন পল্লির পুজোর অংশ, ছবি: ফেসবুক
প্রস্তুতি পর্বে এসব কথাই জানিয়েছেন উদ্যোক্তা দীপ্ত ঘোষ। তাঁর কথায়, ‘‘আমাদের পাড়ায় নতুন করে রং হচ্ছে দেখে অনেকেই বলাবলি করতে শুরু করেছিলেন, আমরা নাকি নিজেদের রাজনীতির রংই বদলে ফেলছি। কিন্তু না, রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। এটা পুরোপুরি পুজোর সাজ। আমাদের আবোল তাবোল পাড়া এবার বদলে যাচ্ছে হাসিখুশি পাড়ায়। তাই বাড়িগুলো নতুন করে রং হচ্ছে। আগেকার সাদা-কালো বাদ দিয়ে এবার মাল্টিকালার করা হচ্ছে যাতে ছোটদের ভালো লাগে। আসলে এবার আমরা যাঁকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি, সেই যোগীন্দ্রনাথ সরকার তো ছোটদের কাছেই বেশি প্রিয়। তাই তাদের কাছে আমাদের পুজোটা আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে অন্যরকমভাবে ভেবেছি আমরা।'' হাতিবাগান নবীন পল্লিতে দুগ্গাদর্শনে গিয়ে কতটা খুশি হবে ছোটরা? দেখাই যাক।
