shono
Advertisement
Arrest

সোনা ডাকাতির টাকায় দুবাইয়ে আত্মগোপন! দেশে ফিরতেই পাকড়াও সিঁথি কাণ্ডে অভিযুক্ত 'রাজা'

উত্তর কলকাতার সিঁথিতে তিন কোটি টাকার সোনা লুঠে অভিযুক্ত ধৃত আব্বাস রাজা।
Published By: Tiyasha SarkarPosted: 11:33 PM Jan 04, 2026Updated: 11:33 PM Jan 04, 2026

অর্ণব আইচ: উত্তর কলকাতার সিঁথিতে তিন কোটি টাকার সোনা লুঠের ঘটনায় চাঞ্চল‌্যকর মোড়। লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের ডাকাতি দমন শাখার গোয়েন্দাদের হাতে গ্রেপ্তার হল উত্তরপ্রদেশের ‘ভাড়ার ডাকাত’ আব্বাস রাজা। কলকাতায় সোনা ডাকাতির টাকায় দুবাই যাত্রা! মাস দেড়েক দুবাইয়ে ‘সুবোধ’ সেজে সোনার দোকানেই কাজ করছিল সে। কিন্তু ভিসার মেয়াদ ফুরোতেই সোজা উত্তরপ্রদেশে নিজের বাড়িতে এসে গা ঢাকা দেওয়ার ছক কষে দুর্ধর্ষ ডাকাত। যদিও লখনউ বিমানবন্দরে নামার পরই তাকে গ্রেপ্তার করলেন লালবাজারের গোয়েন্দারা।

Advertisement

গত ৩০ অক্টোবর সিঁথির সোনার গয়নার ওয়ার্কশপের সামনে স্কুটি থামিয়ে পিস্তল দেখিয়ে ডাকাতি করে পালায় দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনায় যুক্ত প্রতে‌্যক ‘ডাকাত’ সোনার দোকানের কাজের সঙ্গে যুক্ত। ডাকাতির ঘটনার মাস্টারমাইন্ড ইজরায়েলের সঙ্গে গ‌্যাংয়ের অন‌্য দু’জন সইদুল ও মাসুম বসে ছক কষে। ডাকাতির জন‌্য ইজরায়েল তার পুরনো সঙ্গী আব্বাস রাজাকে ‘ভাড়া’ করে। উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা আব্বাস ওই রাজ‌্য থেকেই পিস্তল জোগাড় করে কলকাতায় আসে। মাসুমের সঙ্গে আব্বাস পিস্তল দেখিয়ে তিন কোটি টাকার সোনা ডাকাতি করে। হুগলিতে সোনার ভাগ বাটোয়ারা করে তারা।

আব্বাস ‘কাটা রুটে’ হুগলি থেকে ট্রেনে করে প্রথমে বর্ধমান ও তারপর আসানসোলে পৌঁছয়। সেখান থেকে ট্রেন ধরে পৌঁছে যায় উত্তরপ্রদেশে। গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত চালিয়ে মাসুম, সইদুল ও ইজরায়েলকে গ্রেপ্তার করে। উদ্ধার হয় সোনার একটি অংশ। তাদের জেরা করে গোয়েন্দারা হানা দেন উত্তরপ্রদেশে আব্বাসের বাড়ি আম্বেদকর নগর জেলার আকবরপুর থানা এলাকায়। সেখানে গিয়ে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, গত নভেম্বরে কলকাতা থেকে আকবরপুরে ফিরেই দুবাইয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয় সে। দুবাইয়ের বিমানের টিকিট কেটেও ফেলে। তৈরি করে পর্যটন ভিসা। পুলিশ তার সন্ধানে তল্লাশিতে আসার আগেই সে লখনউ বিমানবন্দর থেকে বিমানে দুবাইয়ে পালিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে এক পরিচিতর সোনার দোকানে কাজ করতে শুরু করে সে। ইতিমধ্যেই লালবাজারের পক্ষ থেকে আব্বাসের বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস জারি করা হয়। সম্প্রতি তার ভিসা ফুরিয়ে আসে।

শুক্রবার সে দুবাই থেকে লখনউয়ে চলে আসে। কিছুদিন গা ঢাকা দিয়ে ফের দুবাইয়ে পালানোর ছক ছিল তার। কিন্তু তার আগেই লখনউ বিমানবন্দরে তাকে অভিবাসন দপ্তর আটক করে লালবাজারে খবর দেয়। শনিবার রাত একটা নাগাদ গোয়েন্দারা আব্বাসকে গ্রেপ্তার করেন। রবিবার তাকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। পুলিশের দাবি, তার কাছে এখনও অন্তত ৭০০ গ্রাম সোনা রয়েছে। ওই সোনার সন্ধানে তাকে নিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ উত্তরপ্রদেশে তল্লাশির পরিকল্পনা করছে। এদিকে, বাকি সোনার খোঁজে জেল হেফাজতে থাকা এই গ‌্যাংয়ের বাকি তিনজনকে প্রেসিডেন্সি জেলে গিয়ে জেরা করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
  • উত্তর কলকাতার সিঁথিতে তিন কোটি টাকার সোনা লুঠের ঘটনায় চাঞ্চল‌্যকর মোড়।
  • লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের ডাকাতি দমন শাখার গোয়েন্দাদের হাতে গ্রেপ্তার হল উত্তরপ্রদেশের ‘ভাড়ার ডাকাত’ আব্বাস রাজা।
Advertisement