ভোটের আগে বিহারের গয়া থেকে এই রাজ্যে অস্ত্র পাচার। অটোয় করে অস্ত্র পাচারের সময়ই দক্ষিণ কলকাতার (Kolkata) রাসবিহারী কানেক্টরে হাতেনাতে লালবাজারের গোয়েন্দাদের হাতে ধরা পড়ল এক অস্ত্র পাচারকারী। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত ব্যক্তির নাম মহম্মদ ইসতেয়াক। সে বিহারের গয়ার গুরুয়া থানা এলাকার বাসিন্দা। তার কাছ থেকে তিনটি সিঙ্গল শটার, দু'টি ৬ ঘড়া রিভলভার, একটি সাত এমএম পিস্তল উদ্ধার করা হয়। বিপুল এই আগ্নেয়াস্ত্র কোথায় পাচার করা হচ্ছিল তা জানতে ধৃত মহম্মদ ইসতেয়াককে জেরা করছে পুলিশ। ঘটনার পিছনে কোনও প্রভাবশালী যোগ আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের গুণ্ডাদমন শাখা।
গত কয়েকমাসে শহরের একাধিক জায়গায় আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের (Arms Recovered) ঘটনা ঘটেছে। সামনেই নির্বাচন। ফলে কলকাতা পুলিশের তরফে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যেই গোয়েন্দাদের কাছে খবর আসে, 'চোরাপথে' বিহার-ঝাড়খণ্ড থেকে বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র ঢুকছে শহরে। সঙ্গে সঙ্গে এই বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে ময়দানে নেমে পড়েন আধিকারিকরা। প্রাথমিক তদন্তে তদন্তকারীদের হাতে বিহারের গয়ার এক বাসিন্দার নাম উঠে আসে। যদিও সন্দেহভাজনের গতিবিধি সম্পর্কে আগাম খবর থাকলেও ঠিক কখন বা কীভাবে অস্ত্র পাচারের উদ্দেশ্যে ওই ব্যক্তি ঢুকবেন, সেই তথ্য ছিল না। এরপরেই সাদা পোশাকে কসবায় রাসবিহারী কানেক্টরে নজর রাখা শুরু হয়। চলে নাকা চেকিং!
দীর্ঘ তল্লাশির পর অবশেষে আসে সাফল্য! দক্ষিণ কলকাতার রাসবিহারী কানেক্টরে একটি অটো থামিয়ে তল্লাশি চালাতেই ফাঁস হয় কেলেঙ্কারি! হাতেনাতে ধরা হয় মহম্মদ ইসতেয়াককে। ধৃতকে জেরা করে একটি ব্যাগ উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা। তাতেই রাখা ছিল তিনটি সিঙ্গল শটার, দু'টি ৬ ঘড়া রিভলভার, একটি সাত এমএম পিস্তল। শুধু তাই নয়, বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিও উদ্ধার হয় বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ধৃত মহম্মদ ইসতেয়াকের কাজ ছিল শুধু অস্ত্রগুলি পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু কার আছে? তা জানতেই ধৃতকে জেরা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, পুরো ঘটনার পিছনে বড় কোনও মাথা থাকতে পারে বলে অনুমান গোয়েন্দাদের।
