বিধায়ক হতে মরিয়া? আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের কোনও একটি আসনে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম প্রার্থী হচ্ছেন! নিউটাউনের হোটেলে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে একান্ত বৈঠকের পর সেই জল্পনাই আরও উসকে দিচ্ছে। হুমায়ুনের পার্টির শিবির সূত্রে খবর, সেলিম মুর্শিদাবাদ বিধানসভা আসনে দঁাড়াতে আগ্রহী। তাই হুমায়ুন কবীরের দলের সমর্থন পেতেই তিনি নিউটাউনের হোটেলে বৈঠক করেছেন। বাম শিবিরেও প্রশ্নও উঠেছে যে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ জেলায় কোনও আসনে সিপিএম প্রার্থী যাতে হুমায়ুনের দলের সমর্থন পান সেজন্যই কি এই জোট বৈঠক? আর সেই প্রার্থী কি খোদ সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক?
সেলিম বৈঠকের পরে বলেছেন, তিনি হুমায়ুনের ‘মন’ বুঝতে গিয়েছিলেন। তা নিয়েও পার্টিতে সেলিম বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন, হুমায়ুনের মন বুঝতে তাঁর সঙ্গে বৈঠক করতে হল কেন? বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করেছেন হুমায়ুন। আবার সেই হুমায়ুন গত লোকসভা ভোটের সময়ে হিন্দুদের ভাগীরথীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুঙ্কার দিয়েছিলেন। এটাও বলেছিলেন, বিজেপির সমর্থন নিতেও তাঁর কোনও ছঁুৎমার্গ নেই। তাই তাঁর মন বুঝতে বৈঠক কেন পার্টিকে এড়িয়ে? এর পরিষ্কার জবাব অবশ্য রাজ্য সিপিএমের তরফেও কেউ দিতে পারেনি।
চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন সেলিম। কংগ্রেসের সমর্থনে তিনি লড়েছিলেন। সেলিমের সমর্থনে সেই সময় প্রচারে নেমেছিলেন অধীর চৌধুরীও। গত লোকসভায় মুর্শিদাবাদ আসনে পরাজিত হন সেলিম। খবর, এবার সেই মুর্শিদাবাদ জেলারই ২২টি বিধানসভা আসনের মধ্যে যে কোনও ১টি আসনে প্রার্থী হতে আগ্রহী সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক। যদিও এই বিষয়ে আলিমুদ্দিন এখনও কোনও কথা বলতে নারাজ। হুমায়ুন-সেলিম বৈঠক নিয়ে সিপিএমের মধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। দল আড়াআড়ি ভাগ হয়ে গিয়েছে বলে খবর। প্রশ্ন উঠেছে, জেতার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন মহম্মদ সেলিম? সেজন্যই কি নিউটাউনের হোটেলে বৈঠক?
