এবার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে বোমাতঙ্ক। কর্তৃপক্ষ হুমকি ই-মেল পেয়েছে বলেই খবর। চিঠিও পাঠানো হয়। সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে হুমকি দেওয়া হয় বলেও খবর। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল কর্তৃপক্ষের তরফে চিঠি লিখে হেস্টিংস থানায় গোটা বিষয়টি জানানো হয়। এরপর বিশাল পুলিশবাহিনী ইতিমধ্যে ভিক্টোরিয়ায় পৌঁছেছে। রয়েছে বম্ব ও ডগ স্কোয়াড। এদিকে, শুক্রবার দুপুর থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধরনায় বসেছেন। ওই এলাকা থেকে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের দূরত্ব মাত্র ৩ কিলোমিটার। তাই স্বাভাবিকভাবে এই হুমকি মেল ও চিঠি ঘিরে বাড়ছে আতঙ্ক।
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল শহরের প্রাণকেন্দ্র। শুধু এই শহর কিংবা শহরতলির বাসিন্দারা নন। ভিনরাজ্যের বহু মানুষের কাছে বিশিষ্ট পর্যটনস্থল হিসাবে পরিচিত এই স্মৃতিসৌধ। তাই স্বাভাবিকভাবে সেখানে বোমার হুমকিতে বাড়ছে আতঙ্ক। কে বা কারা এই মেল কিংবা চিঠি পাঠাল, তা এখনও নিশ্চিত নয়। হেস্টিংস থানার পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
উল্লেখ্য, দিনকয়েক আগে দেশের মুখ্য পোস্ট অফিস, পাসপোর্ট সেবাকেন্দ্রগুলি আরডিএক্স দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি মেল এসেছিল। পরপর দু’দিন ধরে এই ঘটনার জেরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের মুখ্য পোস্ট অফিস ও পাসপোর্ট পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তবর্তী এলাকা গোপালনগরের বাড়ি থেকে সৌরভ বিশ্বাসকে যখন গত শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় গুজরাট পুলিশ, তখন অবাক হয়ে যান প্রতিবেশীরা। তার বিরুদ্ধে গুজরাটের একাধিক স্কুল, আদালত বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বছর দুই আগে আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে এদেশে এসেছিল সৌরভ বিশ্বাস৷ এলাকায় তার দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়ের বাড়ি রয়েছে৷ তা সত্ত্বেও এপারে এসে প্রথমে কলকাতায় থাকত সৌরভ। পরে সে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে বসবাস শুরু করে, বাড়িতে বসে কম্পিউটারে কাজ করত। কিন্তু তার আড়ালে সে কী কী করত, তা গ্রামের বাসিন্দারা জানতেন না। সৌরভের গ্রেপ্তারির রেশ কাটতে না কাটতেই ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে বোমা হামলার হুমকিতে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
