shono
Advertisement
Calcutta HC

প্রকাশ্যে বাম আমলে শিক্ষায় নিয়োগ দুর্নীতি! বুদ্ধ-জমানার শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্তে সবুজ সংকেত হাই কোর্টের

সরকারি তহবিল থেকে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী কীভাবে নিয়োগ করলেন, সেই প্রশ্নে রাজ্য চাইলে তার তদন্ত করতে পারে বলে জানিয়েছেন বিচারপতি চট্টোপাধ্যায়।
Published By: Subhankar PatraPosted: 09:04 AM Feb 19, 2026Updated: 09:21 AM Feb 19, 2026

এবার প্রকাশ্যে বাম আমলে শিক্ষায় নিয়োগ দুর্নীতি। যা নিয়ে সরব কলকাতা হাই কোর্টও। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের জমানায় তাঁরই শিক্ষামন্ত্রী পার্থ দে অনৈতিকভাবে চাকরি দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। বুধবার সেই সংক্রান্ত মামলায় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার সবুজ সংকেতও দিয়েছেন বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এইভাবে সরকারি কোষাগারের টাকা অনৈতিকভাবে বিলি করা যায় না। রাজ্য চাইলে এমন অনৈতিক কাজের তদন্ত শুরু করে সত্য উদঘাটনের পথে হাঁটতে পারে বলে জানিয়েছে আদালত।

Advertisement

ঘটনার সূত্রপাত ২০১২ সালে। সরকার গঠনের এক বছর পর বিকাশ ভবনে বিভাগীয় সহকারী হিসাবে তিথি অধিকারীকে বহিষ্কার করে বর্তমান রাজ্য সরকার। রাজ্যের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তিথি। এদিন সেই মামলাতেই মামলা খারিজের পাশাপাশি, বাম আমলে মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের জমানায় তাঁরই শিক্ষামন্ত্রী অনৈতিকভাবে চাকরি দিয়েছেন বলে তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দেয় হাই কোর্ট। সরকারি তহবিল থেকে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী কীভাবে নিয়োগ করলেন, সেই প্রশ্নে রাজ্য চাইলে তার তদন্ত করতে পারে বলে জানিয়েছেন বিচারপতি চট্টোপাধ্যায়। আদালতের আরও পর্যবেক্ষণ, ওই পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া রয়েছে। কিন্তু তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী সেই নিয়মের বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে চাকরি দিয়েছেন। তার বেতন মেটানো হয়েছে সর্বশিক্ষা মিশনের তহবিল থেকে, যেটি সরকারি অর্থ তহবিল।

২০০৭ সালে এই সর্বশিক্ষা মিশনের চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসাবে উলুবেড়িয়া ইস্ট সার্কলে কাজে যোগ দেন। প্রতি বছর তার চুক্তি এক বছরের জন্যে বর্ধিত করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনামায় উল্লেখ রয়েছে, আশ্চর্যজনকভাবে পরের বছর নভেম্বরে তাঁকে প্রোজেক্ট অফিসার হিসাবে বালি ইস্ট সার্কলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ২০০৯ সালে তাঁর কাজে গাফিলতি ও একাধিক অভিযোগের কারণে ২০১০ সাল থেকে তাঁর চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়নি। তিথি সরাসরি তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর দ্বারস্থ হন। ওই ২০১০ সালের ৫ অক্টোবর তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী হস্তক্ষেপ ও ব্যক্তিগত প্রভাব খাটালে তাঁকে বিকাশ ভবনে শিক্ষা দপ্তরের এক বিভাগীয় সহকারী হিসাবে নিয়োগ করা হয়। কিন্তু ২০১২ সালের আগস্টে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি তাঁকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেন। তাঁর পরিবর্তে যোগ দেন অন্য এক কর্মী।

আদালতে তিথির অভিযোগ, তাঁকে কারণ না দর্শিয়ে ও লিখিতভাবে না জানিয়ে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি সেই আবেদন খারিজ করে নির্দেশে জানিয়েছেন, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী তাঁর ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে বেআইনিভাবে ওই পদে নিয়োগ করে অনৈতিক কাজ করেছেন। শুধু তাই নয়, সরকারি তহবিল থেকে তাঁর বেতন দিয়ে আর্থিক নয়ছয় করেছেন। তাই বর্তমানে রাজ্য চাইলে ওই শিক্ষামন্ত্রী কীভাবে এই অনৈতিক নিয়োগ করে সরকারি অর্থ নয়ছয় করেছেন তার তদন্ত করতে পারবে। আদালতের মতে, তদন্ত হলে এমন অনেক নিয়োগ সামনে আসতে পারে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement