কলকাতা হাই কোর্টের ঠিকানা পরিবর্তন। এতদিন কলকাতা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা কলকাতা হাই কোর্টের ঠিকানা ছিল, ৩ নং 'এসপ্ল্যানেড রো ওয়েস্ট', কলকাতা-৭০০০০১। পিন কোড অপরিবর্তিত থাকলেও রাস্তার নাম বদলে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রয়াত বিচারপতি তথা আইনজ্ঞ জাস্টিস রাধাবিনোদ পালের নামে ওই রাস্তার নামকরণ হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ নিয়ে হাই কোর্ট প্রশাসনের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে হাই কোর্টের ঠিকানা বদলের বিষয়টি জানানো হয়েছে।
এতদিন কলকাতা হাই কোর্টের ঠিকানা ছিল, ৩ নং 'এসপ্ল্যানেড রো ওয়েস্ট', কলকাতা-৭০০০০১।
উল্লেখ্য, পহেলগাঁওতে জঙ্গি হানায় পর্যটকদের মৃত্যুর ঘটনায় ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে টোকিও সফরে গিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে রাধাবিনোদ পালের ছবিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। সেখানে কলকাতার একটি রাস্তার নাম রাধাবিনোদ পালের নামে করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের লোকসভার নেতা অভিষেকের সেই সুপারিশ অতি দ্রুত কার্যকর করেছিলে কলকাতা পুরসভা। কলকাতা পুরসভার পাশাপাশি, বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টও গুরুত্ব দিয়ে সম্মান জানিয়ে ওই ঘোষণাতে সরকারিভাবে সিলমোহর দিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে হাই কোর্ট প্রশাসন। স্বভাবতই এতদিন ধরে চলে আসা হাইকোর্টের ঠিকানার পরিবর্তন হল। কলকাতা হাই কোর্টের নতুন ঠিকানা ৩, বিচারপতি রাধাবিনোদ পাল সরণি, কলকাতা - ৭০০০০১।
জাপানে জাস্টিস রাধাবিনোদ পালের অবদান ও একখানি। যে অবদানের জন্য তিনি সেখানে অত্যন্ত সম্মানিত। তাঁর প্রপৌত্র সুধিবিনোদ পালের অনুরোধে সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের টোকিওতে রাধাবিনোদ পালের স্মৃতিস্তম্ভ পরিদর্শনের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কলকাতা পৌরসভার তরফে এই পরিবর্তনকে বাংলার এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বাঙালি আইনজ্ঞ জাপানের ‘বাঙালি বন্ধু’ প্রয়াত রাধাবিনোদ পালের নামে এসপ্ল্যানেড ওয়েস্ট রাস্তার নাম জাস্টিস রাধাবিনোদ পাল সরণি করা হয়।
এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এক্স হ্যান্ডেলে এনিয়ে পোস্ট করা হয়। তাতে লেখা, "কলকাতা হাই কোর্ট পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এসপ্ল্যানেড রো (পশ্চিম) নাম পরিবর্তন করে বিচারপতি রাধাবিনোদ পাল সরণি রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে, যা বাংলার অন্যতম শ্রদ্ধেয় আইনজ্ঞকে সম্মান জানাচ্ছে। আমাদের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগের বাস্তবায়ন শুধু বাংলাকে গৌরবোজ্জ্বল করেছে তাই নয়, বাংলার মেধা-বাংলার গৌরবকে স্বীকৃতি দিয়েছে। একদিকে দিল্লির স্বৈরাচারীরা ইতিহাস ভুলিয়ে দিতে চাইছে; তখন বাংলা একমাত্র রাজ্য যেখানে ইতিহাসের মর্যাদা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় করে রাখা হচ্ছে।"
