বাংলায় সমস্ত সম্পদ রয়েছে। শিল্পপতিদের বিনিয়োগের জন্য ফের আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু বলেন, ‘‘বাংলায় সমস্ত সম্পদ আছে। প্রস্তাব নিয়ে আসুন। এলাকা চিহ্নিত করে আসুন। কী কী সাহায্য চাই বলুন। এখানে বিনিয়োগ হোক।''
প্রায় দু’মাস হতে চলা বর্তমান সরকারের আমলে কি কি কাজ হয়েছে তা এদিন বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। দেশের সুরক্ষায় সীমান্তে বিএসএফকে জমি দেওয়া থেকে শুরু করে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো, সেনসাসের কাজ শুরু করা, গুণ্ডাদমন বিল নিয়ে আসার কথা বলেন। ইউসিসিও হবে বলে এদিন সাফ জানিয়ে দেন শুভেন্দু।
শনিবার সন্ধ্যায় আলিপুর নাগরিক সমিতি আয়োজিত ‘অভিনন্দন সমারোহ’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ছিলেন বিজেপি নেতা শিশির বাজোরিয়া। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিপিএম ও তৃণমূল সরকারকে একযোগে আক্রমণ করেন শুভেন্দু। বলেন, ‘‘৩৪ বছরে কমিউনিস্ট ও ১৫ বছর তৃণমূলের রাজে নিচুতলায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা, নীতি সব গড়বড় ছিল। ৩৪ বছরে শুধু পার্টি অফিস হয়েছে। শিল্প বন্ধ হয়েছে, আর ইনক্লাব-জিন্দাবাদ হয়েছে। তৃণমূলের আমলে ১৫ বছর তুষ্টিকরণ আর দুর্নীতি।’’ প্রাক্তনের সঙ্গে তাঁর পার্থক্য বুঝিয়ে নাম না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও এদিন কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘‘আগের মুখ্যমন্ত্রী বলতেন আমি সব জানি। এখনকার মুখ্যমন্ত্রী বলেন আমি অনেক কিছুই জানি না। শোনার দরকার, বোঝার দরকার। এটাই আগের ও বর্তমান রাজ্য সরকারের পার্থক্য।’’
প্রায় দু’মাস হতে চলা বর্তমান সরকারের আমলে কী কী কাজ হয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। দেশের সুরক্ষায় সীমান্তে বিএসএফকে জমি দেওয়া থেকে শুরু করে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো, সেনসাসের কাজ শুরু করা, গুন্ডাদমন বিল নিয়ে আসার কথা বলেন। ইউসিসিও হবে বলে এদিন সাফ জানিয়ে দেন শুভেন্দু। আবার বিজিবিএস নিয়ে আগের রাজ্য সরকারের মিথ্যাচার ও অনিয়মের বিষয়টিও এদিন তুলে ধরেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, যতবার বিজিবিএস হয়েছে ছ'শো কোটির বেশি টাকা ওড়ানো হয়েছে। শুধু ১৬ লাখ কোটির খাতায় কলমে এগ্রিমেন্ট। ইনভেস্টমেন্ট ২৫ থেকে ৩০ হাজার কোটির বেশি নয়। সেটাও সিপিএমের আমলে জমিতে তৈরি হওয়া প্রকল্প। শুধু তাই নয়, ফিকিকে কীভাবে বিপুল অর্থ দেওয়া হয়েছে তাও এদিন ওই অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ফিকিকে তিন-চার বছরে বিজিবিএস করার জন্য ৩১১ কোটি দেওয়া হয়েছে। আর সেই নথিপত্র যে তাঁর হাতে রয়েছে, তাও জানান শুভেন্দু অধিকারী।
অন্যদিকে পোস্তায় ব্যবসায়ীর উপর ডিম ছোড়া ও মারধরের ঘটনায় পুলিশ পদক্ষেপ নিয়েছে। এরপরই পোস্তার ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এদিন সেই প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বড়বাজারে একটা খারাপ কাজ হয়েছিল। যা বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে মেলে না। রাজনৈতিক বিষয় নয়। পুলিশ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। কলকাতা পুলিশের প্রশংসা করে ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট তুলে নিয়েছে।
